গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে কল্যাণপুর‑গাবতলী রুটে ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবারে যাত্রীদের মধ্যে ভাড়া বাড়ার অভিযোগ উঠে আসে, যখন দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি চলছে। এই রুটে যাত্রা করা মানুষদের বেশিরভাগই রাজধানী থেকে গৃহযাত্রা শুরু করেছে, তবে কিছুজন এখনও বাড়ি ফেরার পথে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সাধারণত ঢাকা শহরের রাস্তায় যানজটের মাত্রা কম থাকলেও, বাস চলাচলের সময়সূচি ও ভাড়া নিয়ে অসন্তোষের মাত্রা বাড়ছে। বিশেষ করে গাবতলী টার্মিনাল থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত দীর্ঘ দূরত্বে বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর প্রচলন বেড়েছে।
সকালবেলা টার্মিনাল পর্যবেক্ষণ করা হলে দেখা যায়, একাধিক বাস একসাথে থেমে থাকে এবং মাঝমাঝে থামিয়ে যাত্রী গ্রহণের জন্য হেলপারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই হেলপাররা যাত্রীদের সঙ্গে দরদাম করে অতিরিক্ত টাকা নিতে চেষ্টা করে, যা যাত্রীদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।
যাত্রীদের মতে, পূর্বে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে নির্ধারিত ভাড়া এখন ৫০০‑৫৫০ টাকার দিকে বেড়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বাসের চাপে এবং রুটের জটলা বাড়ার ফলে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বাস চালক ও টার্মিনালের কাউন্টার কর্মীরা এই দাবিকে অস্বীকার করে, তারা বলছে যে তারা নির্ধারিত ভাড়া নেওয়ার বাইরে কোনো অতিরিক্ত টাকা নেয় না।
শ্যামলী পারিবারিক টিকিট বিক্রেতা বিল্লাল হোসেন জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাসের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে বিকেল পাঁচটায় একটি বাসের সময়সূচি রয়েছে, তবে যাত্রী না থাকায় সেটি চালু হবে কিনা তা অনিশ্চিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাসের চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ পায় না।
বিল্লাল হোসেনের মতে, যাত্রীরা আগেই গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন, ফলে বাকি যাত্রীদের জন্য বাসের সিট পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে যারা এখনও টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন, তারা ভাড়া বাড়ার অভিযোগের পাশাপাশি সিটের অভাবের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
টিকিট বিক্রেতা আরও জানান, বর্তমানে টার্মিনালে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যাত্রীরা যে ভাড়া দিচ্ছেন তা নির্ধারিত মূল্যের মধ্যে রয়েছে এবং অতিরিক্ত কোনো চার্জ নেই।
এই পরিস্থিতি বিশেষ করে নির্বাচনের আগে বাড়ি ফেরার সময়ে যাত্রীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে বিকল্প রুট বা পরিবহন মাধ্যম খুঁজছেন, যাতে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, গাবতলী টার্মিনালের আশেপাশে রেস্টুরেন্ট ও স্টলগুলোতে যাত্রীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিক্রয়েও প্রভাব পড়ছে। ফলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ওপরও এই ভাড়া বৃদ্ধি ও জটলার প্রভাব পড়তে পারে।
অধিকাংশ যাত্রী এখনো টার্মিনালে অপেক্ষা করে, তবে তারা জানেন যে নির্ধারিত ভাড়া ছাড়িয়ে কোনো টাকা দেওয়া উচিত নয়। তাই তারা বাসের চালক ও হেলপারদের সঙ্গে দরদাম করে সঠিক ভাড়া নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
সারসংক্ষেপে, গাবতলী বাস টার্মিনালে কল্যাণপুর‑গাবতলী রুটে জটলা ও ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা প্রভাবিত হয়েছে। যাত্রীরা এখনো সঠিক ভাড়া ও সিটের নিশ্চয়তা চেয়ে টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন, এবং বিকল্প পথ খোঁজার সম্ভাবনা বাড়ছে।



