মার্চ‑এ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সাধারণত মোটরসাইকেল বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। তবে এই বছর বিক্রির পরিমাণ পূর্বের মতো বাড়েনি, নতুন ও পুরোনো দু’ধরনের বাজারেই চাহিদা প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছায়নি।
মোটরসাইকেল বিক্রেতা ও প্রস্তুতকারকরা নির্বাচনী প্রচারণার জন্য মাঠে যানবাহনের চাহিদা বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়ে স্টক বাড়িয়ে রেখেছিল। তবু মিরপুর, বংশাল, আবদুল্লাহপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের বিক্রয় প্রত্যাশিত মাত্রা অর্জন করতে পারেনি। যদিও কিছু গ্রাহক নতুন গাড়ি কিনেছেন, তবে মোট বিক্রয় বৃদ্ধি নির্বাচনের সরাসরি ফলাফল হিসেবে ধরা যায় না।
সুজুকি ব্র্যান্ডের বাংলাদেশে বাজারজাতকারী মোটর বাইকসের নির্বাহী পরিচালক কাজী আশিকুর রহমান জানান, পূর্বের নির্বাচনে বিক্রয় ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ত। তবে গত দুই নির্বাচনে এই ধরনের উত্থান দেখা যায়নি এবং এইবারও বিক্রয় তেমন বাড়েনি। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে ফলাফল প্রত্যাশার থেকে কম।
অন্যান্য মোটরসাইকেল নির্মাতা ও বাজারজাতকারী সংস্থার কর্মকর্তারাও একই রকম মত প্রকাশ করেছেন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিক্রয় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক নেতারা বড় পরিমাণে মোটরসাইকেল অর্ডার করেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রচারণার পদ্ধতি পরিবর্তনের ফলে মাঠে যানবাহন ব্যবহার কমে গেছে; ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ার ফলে সরাসরি গাড়ি-যানবাহনের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে।
অতিরিক্তভাবে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপে ভোক্তাদের ব্যয়সংকোচনও বিক্রয় হ্রাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হিরো ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেডের কোম্পানি সচিব ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা বিজয় কুমার মণ্ডল জানান, নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিক্রয় এই বছর তেমন বাড়েনি। তবে গত বছর থেকে মোটরসাইকেল বিক্রিতে সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা বাজারের মৌলিক চাহিদা এখনও বজায় রয়েছে তা নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনের সময় ডিজিটাল মিডিয়ার ব্যবহার বাড়ার ফলে প্রচলিত মাঠভিত্তিক ক্যাম্পেইন কমে যাওয়া এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের সমন্বয় মোটরসাইকেল বিক্রিতে প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে যদি ডিজিটাল প্রচারণা আরও প্রধানধারায় আসে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়, তবে বিক্রির প্রবণতা পুনরায় উত্থান পেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারের সতর্কতা বজায় থাকবে এবং বিক্রেতা ও প্রস্তুতকারকদের জন্য বিক্রয় কৌশল পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের সময় মোটরসাইকেল বিক্রিতে পূর্বের মতো উত্থান না দেখা যাওয়া একটি নতুন প্রবণতা নির্দেশ করে। যদিও সামগ্রিক বিক্রয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে নির্বাচনের সরাসরি প্রভাব কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক চাপের সংমিশ্রণ ভবিষ্যৎ বিক্রয় পরিকল্পনার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।



