দক্ষিণ আফ্রিকা এ ও আফগানিস্তান দলের মধ্যে টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ১২ ওভারে মাত্র ১ উইকেটের সঙ্গে ১২৪ রান সংগ্রহ করে, ২০০ রান লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়। শুরুর পর্যায়ে দ্রুত গতি দেখলেও শেষের আট ওভারে আফগানিস্তানের বোলিং চাপের ফলে রানের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। শেষের অংশে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ৬৩ রান যোগ করতে পারে, যা মোট স্কোরকে ১৯৯ের কাছাকাছি রাখে না।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ প্রথম ১২ ওভারেই ১ উইকেটের সঙ্গে ১২৪ রান গড়ার পর, টার্গেট ২০০ রান অর্জনের প্রত্যাশা ছিল উঁচু। তবে আফগানিস্তানের বোলাররা শেষের অর্ধে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে রানের গতি ধীর হয়ে যায়। শেষ আট ওভারে শুধুমাত্র ৬৩ রান যোগ করা সম্ভব হয়, যা টার্গেটের থেকে প্রায় ৭৬ রান কম।
আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণে ওমরজাই তিনটি উইকেট নেন, রশিদ দুটো করে ক্যাচ করেন। উভয় বোলারই শেষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যার ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ব্যাটিং লাইন‑আপের গতি থেমে যায়। ওমরজাই এবং রশিদের এই পারফরম্যান্স দলকে ২০০ রান পার করার স্বপ্ন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ ব্যাটিং দিক থেকে ডি কক এবং রিকেলটন প্রত্যেকেই পঞ্চাশের কাছাকাছি রান তৈরি করেন। ডি কক ৫৯ রান এবং রিকেলটন ৬১ রান করে দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন। উভয় খেলোয়াড়ই ফিফটি পার করার পরেও দ্রুত গতি বজায় রাখেন, তবে শেষের ওভারগুলোতে রানের গতি হ্রাস পায়।
ডি কক টি‑টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তার পঞ্চম ফিফটি অর্জন করে, যা তাকে এবি ডি ভিলিয়ার্সের রেকর্ডকে অতিক্রম করে সর্বোচ্চ স্কোরধারী করে তুলেছে। এই মাইলফলক তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, যা তার আন্তর্জাতিক মানকে আরও দৃঢ় করে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ ১৮ ওভারে ১৫৯/৫ স্কোরে পৌঁছায়, তবে ব্রেভিস ১৯ বলেই ২৩ রান করে আউট হন, একই ওভারের শেষ বলেই স্টাবস ১৯ বলেই ১৯ রান করে বেরিয়ে যান। এই দুইটি দ্রুত আউট হওয়া স্কোরের গতি হ্রাসে ভূমিকা রাখে।
ডি কক এবং রিকেলটনের পার্টনারশিপ ৮৬ রান গঠন করে, যদিও তারা একসাথে মাত্র ৪৫ বলই মুখোমুখি হয়। এই জুটি থেকে শতরানও আসে, যা দলের মোট স্কোরে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। তবে শেষের পর্যায়ে রানের গতি কমে যাওয়ায় লক্ষ্য পূরণে বাধা সৃষ্টি হয়।
স্পিনার নুর আহমেদ প্রথম ওভারে মাত্র এক ওভারে ২২ রান conced করে, যা শেষের ওভারগুলোতে রানের গতি হ্রাসে সহায়তা করে। রশিদ দুই ওভারে ২১ রান দেন, যার ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ব্যাটিং লাইন‑আপের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। উভয় বোলারই শেষের পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ রোল পালন করেন।
আফগানিস্তানের পাওয়ারপ্লে ৬ ওভারে ৪৩/১ স্কোরে শেষ হয়, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ৪৩ রান সংগ্রহ করে এক উইকেট হারায়। যদিও স্কোর তুলনামূলকভাবে কম, তবে আফগানিস্তানের বোলারদের শৃঙ্খলা এবং লাইন‑আপের স্থিতিশীলতা দলকে সুবিধা দেয়।
প্রারম্ভিক পর্যায়ে আফগানিস্তানের ফজলহক ফারুকি ২.৩ ওভারে ১২ রান conced করে ১ উইকেট নেন। তার শেষ ওভারে তিনি মার্করামের উইকেট নেন, যা দক্ষিণ আফ্রিকা এ ব্যাটিং লাইন‑আপের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল।
ম্যাচের ফিল্ডিং ও umpiring দিক থেকে বাংলাদেশি শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যান্য অফিসিয়ালদের মধ্যে রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, গুলবদিন নাইব, সেদিকুল্লাহ আতাল, দারউইশ রাসুলি, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান (অধিনায়ক), নুর আহমেদ, ফজলহক ফারুকি ও মুজিব উর রহমান অন্তর্ভুক্ত।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ পরবর্তী ম্যাচে গ্রুপ ‘ডি’ র আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে, যেখানে টার্গেট স্কোর এবং ব্যাটিং কৌশল পুনর্বিবেচনা করা হবে। দলটি এখন পর্যন্ত অর্জিত পারফরম্যান্স থেকে শিখে, শেষের ওভারগুলোতে রানের গতি বজায় রাখার জন্য পরিকল্পনা করবে।



