চিফ ইলেকশন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন আজ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা-তে বিদেশি সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সামনে আগামীকাল নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং সকল অংশগ্রহণকারীর আস্থা অর্জনই মূল লক্ষ্য।
ব্রিফিংয়ে চারজন ইলেকশন কমিশনার – আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমদ, আনওয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, পাশাপাশি ইলেকশন কমিশনের সিনিয়র সেক্রেটারি আকতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সকল কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রস্তুতির সামগ্রিক দিকগুলো তুলে ধরা হয়।
কমিশনার নাসির উদ্দিন জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতি একটি সমন্বিত ও বহু-মাত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে আইনগত সংস্কার, প্রতিষ্ঠানগত প্রস্তুতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ এবং কার্যকরী পরিকল্পনা একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত। এই সমন্বিত পদ্ধতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং অন্যান্য স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ বজায় রাখা হয়েছে, যাতে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং অংশগ্রহণের হার বাড়ে। পাশাপাশি, নির্বাচনী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে, যা বিধানের স্পষ্টতা, জবাবদিহিতা ও অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
ভোটার তালিকায় ব্যাপক আপডেটের মাধ্যমে ৪.৫ মিলিয়ন নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২.৭ মিলিয়ন নারী ভোটার অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে মোট নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১২৭ মিলিয়নেরও বেশি হয়েছে, যা দেশের বৃহত্তম নির্বাচনী তালিকা গঠন করে।
এই ব্যাপক নিবন্ধন প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সমর্থন পাওয়া গেছে। তারা প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তহবিল সরবরাহের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটিকে দ্রুততর ও নির্ভুল করতে ভূমিকা রেখেছেন।
প্রথমবারের মতো, দেশের বাইরে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রায় ৮ লক্ষের বেশি প্রবাসী ভোটার এই পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছে, যা তাদের ভোটাধিকার ব্যবহারকে সহজতর করবে।
দেশের ভিতরেও ডাকভোটের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, এবং ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার তাদের ভোটপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই পদ্ধতি বিশেষ করে দূরবর্তী ও প্রবেশযোগ্যতা সীমিত এলাকায় ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে।
সামগ্রিক অপারেশনাল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে; সকল ভোটকেন্দ্রের যাচাই করা হয়েছে, ভোটপত্র বিতরণ শেষ হয়েছে এবং দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হয়েছে। প্রশিক্ষণটি পেশাদারিত্ব ও প্রক্রিয়ার কঠোর অনুসরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।
ভোটের দিন, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে প্রধান কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীরা ভোটদান ও গণনা পরিচালনা করবেন, যেখানে প্রার্থীর প্রতিনিধি, স্বীকৃত পর্যবেক্ষক ও অন্যান্য অনুমোদিত ব্যক্তির উপস্থিতি থাকবে। এই ব্যবস্থা ভোটের স্বচ্ছতা ও ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াবে।
কমিশনার নাসির উদ্দিনের মতে, এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, সকল অংশগ্রহণকারী এই প্রস্তুতিগুলোকে স্বাগত জানাবে এবং নির্বাচনের ফলাফল শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক হবে।



