দক্ষিণ আফ্রিকা এ ও আফগানিস্তান দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ১৩ ওভারে ১২৭/৩ স্কোরে সীমা অতিক্রম করে। রশিদ ফেরালেনের নেতৃত্বে দুই ব্যাটসম্যান ডি কক ও রিকেলটন প্রত্যেকেই ফিফটি করে দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন। ডি কক ৫৯ রান ক্যাচে আউট হয়ে শেষ করেন, আর রিকেলটন ৬১ রান এলবিডব্লিউ (LBW) হয়ে শেষ করেন। রশিদ ৩ ওভারে ২৪ রান করে দুই উইকেট নেন, যার মধ্যে একটি ক্যাচ এবং অন্যটি লবডব্লিউ।
ডি কক ৩৪ বলে ফিফটি করেন, যা তার টি-২০ বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে পঞ্চম ফিফটি। একই ওভারে রিকেলটন ২৩ বলে ফিফটি করেন, দুজনের মিলিত অবদান শতরান গঠন করে। দক্ষিণ আফ্রিকা এ ১০ ওভারে ৯৮/১ স্কোরে দৌড়ে, ডি কক ও রিকেলটন একত্রে ৮৬ রান গড়ে চলেছেন, যদিও রিকেলটনের ৪৫ বলে গতি কিছুটা ধীর।
দশম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে আসা স্পিনার নুর আহমেদ এক ওভারে ২২ রান ছেড়ে দেন, যা দলের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। রশিদ খান দুই ওভারে ২১ রান দেন, তবে তার বোলিং পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেখা যায় না। ডি কক ও রিকেলটন উভয়ই ফিফটির কাছাকাছি স্কোরে শেষ করেন, যা তাদের ব্যাটিং শক্তি তুলে ধরে।
আফগানিস্তানের পাওয়ার প্লে ৬ ওভারে ৪৩/১ স্কোরে শুরু হয়। যদিও দলটি মোট ৪৩ রান সংগ্রহ করে, তবে তারা দক্ষিণ আফ্রিকা এ এর সমান স্কোরে পৌঁছাতে পারেনি। আফগানিস্তানের ক্যাপ্টেন মার্করাম এক উইকেট হারিয়ে যান, তবে কুইন্টন ডি কক ১৮ বলে ২৫ রান করে অপরাজিত রয়ে যান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ২.৩ ওভারে আফগানিস্তানের ফজলহক ফারুকি ১২ বলে ১ উইকেট নেন, যা মার্করামের জন্য সমস্যার সূচনা করে। ফারুকি স্লোয়ার ডেলিভারিতে ৫ রান দেন এবং মিড-অফে মোহাম্মদ নবীর হাতে ক্যাচ নেন।
গ্রুপ ‘ডি’ ম্যাচে ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের কিপার রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, গুলবদিন নাইব, সেদিকুল্লাহ আতাল, দারউইশ রাসুলি, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান (অধিনায়ক), নুর আহমেদ, ফজলহক ফারুকি ও মুজিব উর রহমান মাঠে তত্ত্বাবধান করেন। আফগানিস্তান দলে তিনজন স্পিনার, একজন পেসার এবং একটি পেস বোলিং অলরাউন্ডার অন্তর্ভুক্ত।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের ক্যাপ্টেন এইডেন মার্করাম এবং কুইন্টন ডি কক (কিপার) পাশাপাশি রিকেলটন, ডেভাল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টাবস, মার্কো ইয়ানসেন, জর্জ লিন্ডে, কাগিসো রাবাদা, কেশব মহারাজ ও লুঙ্গি এনগিডি দলের সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত। টস জিতে আফগানিস্তান প্রথমে ফিল্ডিংয়ে সুবিধা পায়, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দ্রুত স্কোরে ফিরে আসে।
ম্যাচটি আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যা আইপিএল গুজরাট টাইটানসের ঘরের মাঠ হিসেবে পরিচিত। রশিদ খান পূর্বে এই মাটিতে আইপিএল ম্যাচে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আফগানিস্তান দল জিয়া–উর রহমানের পরিবর্তে নুর আহমেদকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করে, যা তাদের স্পিনিং বিকল্পকে শক্তিশালী করে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ এর জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলটি পরবর্তী গ্রুপ ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করেছে। পরবর্তী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এ আবারও গ্রুপ ‘ডি’ এর প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মুখোমুখি হবে, যেখানে শীর্ষ স্কোরারদের পারফরম্যান্স পুনরায় পরীক্ষা করা হবে।



