29 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপুলিশ সদর দপ্তর ভোটকেন্দ্রে ২২ ধরণের কাজ নিষিদ্ধের নির্দেশনা জারি

পুলিশ সদর দপ্তর ভোটকেন্দ্রে ২২ ধরণের কাজ নিষিদ্ধের নির্দেশনা জারি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গণভোটে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর ২২টি নির্দিষ্ট কাজ থেকে বিরত থাকার আদেশ প্রকাশ করেছে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিডিয়ার কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে পারবে না। একই সঙ্গে, ভোটারকে কোনো প্রার্থী, দল বা প্রতীকের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রভাবিত করার কোনো কাজ করা যাবে না। এই বিধানগুলো ভোটার স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশকে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা সমর্থকের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে বলপ্রয়োগ বা লাঠিপেটা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই নির্দেশনা আইনগত সীমার মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে জারি করা হয়েছে।

কোনো রাজনৈতিক দলের মিছিল, সমাবেশ বা কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়া, অথবা কোনো দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা যাবে না। একই সঙ্গে, ব্যক্তিগত মতাদর্শ, পছন্দ বা রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। গালিগালাজ, হুমকি বা অবমাননাকর আচরণও নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার বিরোধী কোনো নির্দেশনা পালন করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক পোস্ট, শেয়ার বা মন্তব্য করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দায়িত্বকালে অপ্রয়োজনীয় ফোন ব্যবহার বা অনলাইন সক্রিয়তা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

ভোটগ্রহণের দিন ভোটারদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে অনৈতিক বা অসদাচরণ করা যাবে না। এইসব বিধান ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত হয়েছে।

সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ, যেমন ভোটের ফলাফল বা সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীর পূর্বাভাস, করা যাবে না। এমন কোনো কথোপকথন বা অনুমানমূলক মন্তব্যের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত। এই নির্দেশনা তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করে ভোটের ফলাফলে হস্তক্ষেপ রোধ করে।

অতিরিক্তভাবে, ভোটকেন্দ্রে বাদাম, ভাপা পিঠা, চানাচুর, জিলাপি, বিস্কুট, কলা ইত্যাদি মুখরোচক খাবার গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। অশোভন পোশাক পরিধান ও অপেশাদার কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। এসব বিধান ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা ও শোভা বজায় রাখে।

পুলিশের এই নির্দেশনা নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রোধের জন্য গৃহীত। সকল পুলিশ ইউনিটকে এই আদেশ মেনে চলতে এবং কোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্দেশনা মেনে না চললে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শাস্তির মধ্যে অব্যাহতি, ডিউটি থেকে বর্জন বা অন্যান্য শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, ভোটের সময় পুলিশ বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের কঠোর নিয়মাবলী ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

নির্বাচন সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ এই বিস্তৃত নির্দেশনা জারি করেছে। ভবিষ্যতে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে।

এই নির্দেশনা ভোটের দিন থেকে কার্যকর হবে এবং সকল পুলিশ সদস্যকে তা মেনে চলতে হবে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরেও, ফলাফল সংক্রান্ত অনুমান বা মন্তব্য করা নিষিদ্ধ থাকবে। এভাবে, ভোটের পুরো প্রক্রিয়ায় ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments