আজ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-২০ বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ও আফগানিস্তান মুখোমুখি হয়েছে। উভয় দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি ম্যাচকে তীব্র প্রতিযোগিতায় পরিণত করেছে। টসের পরে আফগানিস্তান ফিল্ডিংয়ে এগিয়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ-র ওপেনার কুইন্টন ডি কক ৩৪ রান করে পঞ্চম ফিফটি সম্পন্ন করেছেন, আর রায়ান রিকেলটন ২৩ রান যোগিয়ে একই রকম মাইলফলক অর্জন করেছেন। দুজনের মিলিত ৮৬ রানের অংশীদারিত্ব ৪৫ বলে গড়ে উঠেছে, যা দলের শক্তিশালী শুরুর ইঙ্গিত দেয়।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজনের গড় ৮৬ রানের অংশীদারিত্ব বজায় থাকলেও, ডি কক ও রিকেলটন এখনও ফিফটির কাছাকাছি অবস্থায় আছেন। স্পিনার নুর আহমেদ প্রথম ওভারে ২২ রান conceded করে, যা শুরুর দিকে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেছে। রশিদ খান দুই ওভারে ২১ রান খরচে ব্যাটিংয়ে অংশ নেন।
আফগানিস্তানের ব্যাটিং শুরুতে ৬ ওভারে ৪৩/১ স্কোরে স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। যদিও তারা ৪৩ রান সংগ্রহ করেছে, তবে ক্যাপ্টেন মার্করাম তার উইকেট হারিয়েছেন। কুইন্টন ডি কক ১৮ রান ২৫ বলে অপ্রতিহত অবস্থায় রয়েছেন, যা তার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ-র ব্যাটিংয়ে ৬ ওভারে ৪৩ রান যোগ হয়েছে, তবে মার্করামের উইকেট হারানোর পর দলটি সামান্য চাপের মুখে পড়ে। ডি কক ও রিকেলটনের সমন্বিত পারফরম্যান্স এখনও টিমের মোট স্কোর বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আফগানিস্তানের স্পিনার ফজলহক ফারুকি ২.৩ ওভারে ১২ রান conceded করে ১ উইকেট নেন। তার ধীর গতি থেকে ৫ রান করে মিড-অফে দক্ষিণ আফ্রিকা এ-র মোহাম্মদ নবীর হাতে ক্যাচ নেওয়া হয়। এই উইকেটটি ম্যাচের গতি পরিবর্তনে সহায়তা করেছে।
ম্যাচের ফিল্ডিং তত্ত্বাবধান করছেন বাংলাদেশের শারফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ, যিনি ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।
আফগানিস্তানের দলে ক্যাপ্টেন রশিদ খান, উইকেটকিপার রাহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, গুলবদিন নাইব, সেদিকুল্লাহ আতাল, দারউইশ রাসুলি, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবী, নুর আহমেদ, ফজলহক ফারুকি ও মুজিব উর রহমান অন্তর্ভুক্ত। দলটি তিনজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার, একজন বিশেষজ্ঞ পেসার এবং একটি পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিয়ে গঠিত।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ-র দলে ক্যাপ্টেন এডেন মার্করাম, উইকেটকিপার কুইন্টন ডি কক, রায়ান রিকেলটন, ডেভাল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টাবস, মার্কো ইয়ানসেন, জর্জ লিন্ডে, কাগিসো রাবাদা, কেশব মহারাজ ও লুঙ্গি এনগিডি রয়েছেন। কোচিং স্টাফের সিদ্ধান্তে করবিন বশের পরিবর্তে জর্জ লিন্ডে একাদশে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
টস জয়ের পর আফগানিস্তান ফিল্ডিংয়ে অগ্রসর হয়েছে। নুর আহমেদকে জিয়া-উর রহমানের পরিবর্তে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে লক্ষ্য। দক্ষিণ আফ্রিকা এ-র ক্যাপ্টেন এডেন মার্করাম টস জিতলে নিজেরাও ফিল্ডিংয়ে সক্রিয় হতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম, যা আইপিএলের গুজরাট টাইটানসের ঘরের মাঠ, এই ম্যাচের মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। রশিদ খান পূর্বে এই মাটিতে গুজরাট টাইটানসের হয়ে খেলেছেন, তাই তিনি পিচের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পরিচিত। পরবর্তী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এ-র দল একই গ্রুপের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে, যা টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



