মঙ্গলবার রাতের সময় কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের গারাউন্দ গ্রামে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়, যার ফলে অন্তত সাতজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলটি নেত্রকোণা-৩ আসনের (কেন্দুয়া-আটপাড়া) অন্তর্ভুক্ত, যেখানে নির্বাচনী প্রস্তুতি চলার কারণে রাজনৈতিক প্রতীক নিয়ে উত্তেজনা বাড়ে। গারাউন্দ ও দেওপাড়া গ্রাম পার্শ্ববর্তী, উভয়ই গরাডোবা ইউনিয়নের অধীনে।
আহতদের মধ্যে গরাডোবা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হালিম এবং ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য মোনতাজ মিয়া অন্তর্ভুক্ত। উভয়ের বাড়ি একই দেওপাড়া গ্রামে এবং তারা বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
মঙ্গলবার রাতের আলোচনায়, যুবদল নেতা আব্দুল হালিম এবং ঘোড়া প্রতীকের অনুসারী আলমগীর মিয়ার মধ্যে তর্কের সূত্রপাত হয়। উভয় গ্রাম পারস্পরিক সীমানায় অবস্থিত হওয়ায়, তর্ক দ্রুতই দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বিস্তৃত হয়।
প্রতীকভিত্তিক দলগুলো একে অপরের প্রতি আক্রমণাত্মক রূপ নেয়, ফলে গুলিয়ে যায় এবং শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় ধানের শীষ ও ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকরা একে অপরের ওপর আক্রমণ চালায়, যা শেষ পর্যন্ত আহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় পুলিশ অফিসার মোহাম্মদ মেহেদী মাকসুদ জানান, ঘটনাস্থলে রাত্রিকালীন সময়ে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের উপস্থিতি ঘটনার বিস্তার রোধে সহায়ক হয়েছে।
আহতদের মধ্যে দুইজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তারা তীব্র চিকিৎসা পাচ্ছেন। বাকি পাঁচজন স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে, তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপের ফলে অতিরিক্ত ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি, যা তদন্তের অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে ধানের শীষ ও ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে, কারণ উভয় প্রতীকই স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পরিচয়সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই প্রতীকগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায়ই ভোটারদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, গারাউন্দ ও দেওপাড়া গ্রামে ঘটিত এই সংঘর্ষ স্থানীয় নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে। উভয় দলের সমর্থকরা এখনো নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে, যা ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রতিবাদী দলগুলো দাবি করে যে, অন্য দলের আক্রমণাত্মক আচরণই মূল কারণ, আর অন্যদিকে অপর দল নিজেদের রক্ষা করার কথা উল্লেখ করে। উভয় দিকের এই পারস্পরিক অভিযোগের মধ্যে কোনো স্পষ্ট সমাধান এখনো দেখা যায়নি।
নেত্রকোণা-৩ আসনের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি বিবেচনা করলে, এই ধরনের স্থানীয় সংঘর্ষ পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে অথবা ভোটারদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়াতে পারে। তাই, স্থানীয় নেতৃত্বের জন্য এই ঘটনাকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে, গারাউন্দ ও দেওপাড়া গ্রামে সংঘটিত এই সংঘর্ষে সাতজনের শারীরিক ক্ষতি হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। পুলিশ ও সেনা বাহিনীর হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে লিখিত অভিযোগের অভাব তদন্তে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শান্তি বজায় রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন।



