উত্তরপ্রদেশের মাইনপুরি জেলার ভোগাওঁ থানা ১০ ফেব্রুয়ারি তারিখে শ্রীয়েস তলপাড়ে এবং তার সহযোদ্ধা ১২ জনের বিরুদ্ধে বিনিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (FIR) দাখিল করেছে। অভিযোগকারী হলেন ভোগাওঁ গ্রামাঞ্চলের মোহল্লা মিশরানা বাসিন্দা, যিনি দাবি করেন যে তিনি ও তার পরিচিতরা লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অভিযোগ অনুসারে, তলপাড়ে ও তার সহযোগীরা একটি কাল্পনিক বিনিয়োগ প্রকল্প চালু করে গ্রামবাসীদের উচ্চ রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা জমা করিয়ে নিয়েছিলেন। তারা স্থানীয় এলাকায় একটি ‘মুম্বাই-ভিত্তিক ব্যাংক শাখা’ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে, যা প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যাংক নয়, বরং একটি ভুয়া সত্তা হিসেবে কাজ করছিল।
বিনিয়োগকারীরা যখন তাদের অর্থ ফেরত চেয়েছিলেন, তখন তারা জানালেন যে কোনোভাবে টাকা প্রত্যাহার করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি তাদেরকে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য করে, এবং আদালতের নির্দেশে FIR রেজিস্টার করা হয়।
থানা কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে এই মামলায় চৌর্যবৃত্তি ও প্রতারণা সংক্রান্ত ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা জালিয়াতির পরিমাণ এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা নির্ধারণের জন্য প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে, অভিযুক্তরা গ্রামবাসীদেরকে নগদ বা চেকের মাধ্যমে অর্থ জমা করিয়ে, উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের আকৃষ্ট করেছিল। তবে প্রকৃতপক্ষে কোনো লাভজনক প্রকল্প চালু করা হয়নি, ফলে বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এই মামলায় তলপাড়ের ভূমিকা এখনও স্পষ্ট নয়; তবে থানা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে পর্যন্ত কোনো গ্রেফতার করা হয়নি, এবং তদন্ত চলমান অবস্থায় রয়েছে।
শ্রীয়েস তলপাড়ের নাম পূর্বেও আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। গত বছর একই রাজ্যের পশ্চিম অংশে একটি আলাদা মামলায় শত শত বিনিয়োগকারী দাবি করেন যে তারা একটি কো-অপারেটিভ সোসাইটি দ্বারা ধোঁকা খেয়েছেন, যেখানে চলচ্চিত্র শিল্পের ব্যক্তিত্বের নাম ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল।
সেই মামলায়ও তলপাড়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, যদিও সরাসরি তার জড়িত থাকার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট তদন্তকর্তারা এখনও সেই বিষয়টি অনুসন্ধান করছেন এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমান FIR-এ তলপাড়ের সরাসরি অংশগ্রহণের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি; তবে থানা দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে তিনি এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো গ্রেফতার না হওয়া সত্ত্বেও, তদন্তকারী দল অতিরিক্ত সাক্ষ্য ও আর্থিক নথি সংগ্রহের জন্য স্থানীয় ব্যাংক ও পোস্ট অফিসের রেকর্ড পরীক্ষা করছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, মামলাটি চৌর্যবৃত্তি ও প্রতারণা সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী আদালতে উপস্থাপিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য কাজ করবে।
এই ধরনের আর্থিক জালিয়াতি গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে, তাই তদন্তকর্তারা সংবেদনশীলতা বজায় রেখে প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী সুরক্ষায় বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে আদালতের রায় ও তদন্তের ফলাফল অনুসারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।



