ইসির নতুন নির্দেশে ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি, পিকআপ, মাইক্রোবাস এবং ট্রাকের চলাচল সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য নির্বাচনী পরিবেশে অশান্তি রোধ করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পুরো রাত জুড়ে প্রযোজ্য, অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়িগুলোকে রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না। তবে এই সময়ে কিছু বিশেষ গোষ্ঠীর গাড়ি এই বিধান থেকে অব্যাহতি পাবে।
প্রধানত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসনিক কর্মী এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের গাড়ি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে না। এদের চলাচল স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে।
জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়ি, যেমন অগ্নি নির্বাপক, পুলিশ, স্বাস্থ্যসেবা গাড়ি এবং ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী বহনকারী গাড়ি চলাচল করতে পারবে। একই সঙ্গে সংবাদপত্র ও অন্যান্য প্রকাশনা বহনকারী গাড়ি এই সময়ে রাস্তায় চলতে অনুমোদিত।
বিমানবন্দর গমনাগমনের জন্য নির্ধারিত গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় থাকবে। বিমানবন্দর থেকে আসা বা যাওয়া গাড়ি চলাচল করতে পারবে, তবে চালকের কাছে টিকিট বা সমমানের প্রমাণ দেখাতে হবে।
দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী গাড়ি, অথবা যেসব গাড়ি স্থানীয় পর্যায়ে দূরপাল্লা যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর চলাচলেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ হবে না। ফলে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের জন্য রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও স্টিকার প্রদর্শনের শর্তে একটি করে ছোট গাড়ি (জিপ, কার বা মাইক্রোবাস) ব্যবহার করা যাবে। এই ব্যবস্থা নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় গতি বজায় রাখতে লক্ষ্য করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং জরুরি কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য গাড়ি রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন পেলে চলতে পারবে। এই অনুমোদন ছাড়া কোনো গাড়ি চলাচল করবে না।
নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য হবে। রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় স্টিকারের মাধ্যমে গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে।
এই বিধানগুলো নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় গতি সীমিত করার জন্য গৃহীত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এই নির্দেশনা মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
ইসির পরিপত্রে উল্লেখিত শর্তাবলী আগামীকাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, এবং নির্বাচনী কর্মকর্তারা রাস্তায় গাড়ি চলাচল পর্যবেক্ষণ করবেন। কোনো লঙ্ঘন ঘটলে সংশ্লিষ্ট গাড়ি আটক করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



