পাকিস্তান ক্রিকেট দল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৩২ রানের পার্থক্যে জয় অর্জন করে টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ এ পর্যায়ে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে রক্ষাকর্তা ভারত ক্রিকেট দলের সঙ্গে রবিবারের মুখোমুখি ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেয়। এই জয়টি বিশেষ কারণ ইস্লামাবাদের সরকার এক দিন আগে ঘোষিত বয়কট বাতিল করার পর ম্যাচটি পুনরায় নির্ধারিত হয়।
ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৭৩ রান করে শীর্ষ স্কোরার হন এবং ম্যাচের পর “আমরা আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় আছি” বলে মন্তব্য করেন। তার এই উক্তি দলের মনোভাবকে আরও দৃঢ় করেছে।
ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে পাকিস্তান ক্রিকেট দল এবং ভারত ক্রিকেট দলের মধ্যে আইসিসি টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সের পার্থক্য স্পষ্ট। টি২০ বিশ্বকাপে আটটি মুখোমুখিতে মাত্র একবারই পাকিস্তান জয়লাভ করেছে, আর ৫০-ওভার বিশ্বকাপে আটবারের সব ম্যাচই ভারতকে হারাতে ব্যর্থ হয়েছে।
গত বছরের টি২০ এশিয়ান কাপেও ভারত ক্রিকেট দল তিনবার পাকিস্তানকে পরাজিত করে দুবাইতে ট্রফি জয় করে। এই ধারাবাহিকতা পাকিস্তানের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
স্পিনার তরিক উসমান, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে ২৭ রান দিয়েছেন, তিনি দলের পরিসংখ্যান নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে ১৯৯০-এর দশকে ভারতকে পরাজিত করার স্মৃতি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “সেই সময়ের জয়গুলোকে গণনা করলে বর্তমানের রেকর্ডের প্রভাব কমে যায়।”
সাহিবজাদা ফারহানও একইভাবে জানান, “এইবার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে এবং আমরা শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখাব।” তিনি অতীতের এশিয়ান কাপের তিনটি পরাজয়, যার মধ্যে ফাইনালও অন্তর্ভুক্ত, উল্লেখ করে যোগ করেন যে সেসব ম্যাচ একপক্ষীয় ছিল না।
ফারহান আরও উল্লেখ করেন, “বিশ্বকাপে আমরা এখন পর্যন্ত দুইটি জয় পেয়েছি, প্রথমটি শনিবার নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে এবং তা আমাদের ক্যাম্পেইনকে ত্বরান্বিত করেছে।” এই জয়গুলো দলকে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করেছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দল টুর্নামেন্টে প্রবেশের আগে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ঘরে ঘরে টি২০ সিরিজে ৩-০ পরাজয় না করে জয়লাভ করে, যা ক্যাম্পের মনোভাবকে ইতিবাচক করেছে। ফারগান এই পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, “জয় সবসময় আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং আমরা রবিবারের ম্যাচে এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলব।”
ফারগান আরও নিশ্চিত করেন, “আমরা রবিবারের দিন একটি উন্নত দল হিসেবে উপস্থিত হব এবং আমাদের পারফরম্যান্সে তা স্পষ্ট হবে।” এই প্রতিশ্রুতি দলকে আরও দৃঢ় করেছে।
অন্যদিকে, ভারত ক্রিকেট দল বৃহস্পতিবার নিউ দিল্লিতে নামিবিয়া দলের সঙ্গে গ্রুপ এ দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে এবং তারপর শ্রীলঙ্কায় উড়ে যাবে। এই সময়সূচি রবিবারের মুখোমুখি ম্যাচের জন্য দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে।
রবিবারের টি২০ বিশ্বকাপের এই মুখোমুখি ম্যাচটি বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এবং আর্থিক দিক থেকে লাভজনক টাকায় পরিণত হবে, যা উভয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



