রায়ান টেন ডোয়েসচেট টিকিটি২০ বিশ্বকাপের এক ম্যাচের পর উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান ব্যাটিং পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তিনি বিশেষ করে ভারত এ দলের আক্রমণাত্মক স্টাইলের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার কখনো কখনো বিপদের কারণ হতে পারে। এই মন্তব্যটি মুম্বাইয়ের ট্যাকি পিচে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারতের পারফরম্যান্সের পর প্রকাশিত হয়।
ভারত এ দলের ব্যাটিংকে “হেভি-মেটাল” পদ্ধতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে শটের গতি ও শক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করে। মুম্বাইয়ের পিচে এই পদ্ধতি প্রায়ই দলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল, কারণ পিচের ধীর গতি শটের নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভারত এ ২০০‑এর বেশি রান চেজ করে, তবে চারটি ওভারের বেশি সময় বাকি রেখে শেষ পর্যন্ত সঙ্কটে পড়ে।
রায়ান টেন ডোয়েসচেটের মতে, এই ধরনের আক্রমণাত্মক পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা কঠিন, বিশেষ করে টিকিটি২০ ফরম্যাটে যেখানে প্রতিটি ওভার গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ব্যাটিং কৌশলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করা দরকার, যাতে পিচের বৈশিষ্ট্য ও প্রতিপক্ষের বলের গতি অনুযায়ী সমন্বয় করা যায়।
যদিও ভারত এ দলটি জানুয়ারি শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে উচ্চ স্কোর তৈরি করছিল, তবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নাগপুরে ২৩৮ রান তৈরি করা তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতার প্রমাণ ছিল। সেই জয়টি দলকে বিশ্বকাপের আগে কয়েক দিন বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সুযোগ দিয়েছিল, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৩৮ রানের পর, ভারত এ দলটি আরও বেশ কয়েকটি ২০০‑এর বেশি স্কোর অর্জন করে, যা তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের ইঙ্গিত দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জটি দেখিয়েছে যে, পিচের ধীরতা ও শটের ঝুঁকি কখনো কখনো ব্যাটিংকে বিপর্যস্ত করতে পারে। এই অভিজ্ঞতা থেকে দলকে কৌশলগত পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্যায়ে দলটি বিভিন্ন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। টুর্নামেন্টের সূচিতে অস্ট্রেলিয়া বনাম আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ম্যাচগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ম্যাচগুলোতে পিচের বৈচিত্র্য ও প্রতিপক্ষের বলের গতি ভিন্ন হবে, যা ব্যাটিং কৌশলের নমনীয়তা পরীক্ষা করবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, রায়ান টেন ডোয়েসচেটের মন্তব্য দলকে কৌশলগত পুনর্বিবেচনার দিকে ধাবিত করতে পারে। যদি ভারত এ দলটি শটের গতি ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আরও সতর্কতা অবলম্বন করে, তবে তারা টিকিটি২০ ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে সফল হতে পারবে। কোচিং স্টাফের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, যা প্রশিক্ষণ ও ম্যাচ পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রায়ান টেন ডোয়েসচেটের মন্তব্য ভারত এ দলের ব্যাটিং পদ্ধতির পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। মুম্বাইয়ের পিচে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সঙ্কটপূর্ণ পারফরম্যান্স এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। দলটি যদি এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে কৌশলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে, তবে তারা টিকিটি২০ বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে সফলতা অর্জন করতে পারবে।



