বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত ২৬ জনের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করেছে। জাপানি মাতসুশিমা সুমাইয়ার পর দ্বিতীয় বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে সুইডেনের ক্লাব ব্রোমপোজকর্নের ফরোয়ার্ড আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী নির্বাচিত হয়েছেন। ২০ বছর বয়সী আনিকা মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
আনিকা ব্রোমপোজকর্নের অনু-১৯ দলে খেলেছেন এবং সম্প্রতি সুইডিশ কাপের মাধ্যমে সিনিয়র দলে পদোন্নতি পেয়েছেন। ইউরোপের ফুটবলে অর্জিত অভিজ্ঞতা তিনি এখন বাংলাদেশের জাতীয় দলে কাজে লাগাতে চান। তার অন্তর্ভুক্তি দলের আক্রমণাত্মক বিকল্পকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দলীয় তালিকায় আনিকার পাশাপাশি দুইজন নতুন মুখও রয়েছে। আলপি আক্তার ও সৌরভী আফরিন প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে স্থান পেয়েছেন। উভয়ই পূর্বে যুব দলে পারফরম্যান্স দিয়ে কোচের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। এদিকে আইরিন খাতুন ও সৌরভী আকন্দ পুনরায় দলে ফিরে আসছেন, যারা পূর্ব টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
এশিয়ান কাপের ম্যাচগুলো ১ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পাঁচটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ গ্রুপে চীন, উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তানকে মুখোমুখি হবে। প্রথম ম্যাচ ৩ মার্চ চীনকে নিয়ে, যা নয়বারের চ্যাম্পিয়ন, এবং দ্বিতীয় ম্যাচ ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে, যা তিনবারের শিরোপা জিতেছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচ ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে হবে।
টুর্নামেন্টে মোট ১২ দল তিনটি গ্রুপে ভাগ হবে, প্রতিটি গ্রুপে চারটি করে দল থাকবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে অগ্রসর হবে, আর তৃতীয় স্থানের তিনটি দলের মধ্যে সেরা দুইটি দলও কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশের সুযোগ পাবে। কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো আটটি দল ২০২৭ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ ও ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাবনা পাবে।
দলীয় গঠনকে দেখে স্পষ্ট হয় যে কোচ রক্ষণে এবং আক্রমণে ভারসাম্য বজায় রাখতে চেষ্টা করেছেন। গোলরক্ষক হিসেবে রূপনা চাকমা, মিলি আক্তার এবং স্বর্ণা রানী নির্বাচিত হয়েছেন। ডিফেন্ডার লাইনে অধিনায়ক আফিদা খন্দকারের নেতৃত্বে কোহাতি কিসকু, নবীরন খাতুন, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা খাতুন এবং সৌরভী আফরিন রয়েছেন।
মিডফিল্ডে স্বপ্না রানী, মুনকি আক্তার, আইরিন খাতুন, শাহেদা আক্তার, উমহেলা মারমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী এবং উন্নতি খাতুনের সমন্বয় রয়েছে। এই লাইনআপে আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক কাজের সমন্বয় দেখা যাবে। ফরোয়ার্ড পজিশনে আলপি আক্তার, সৌরভী আকন্দ, মোসাম্মত সুলতানা, তহুরা খাতুন, মোসাম্মত সাগরিকা এবং শামসুন্নাহার জুনিয়র অন্তর্ভুক্ত।
দলকে সমর্থন করার জন্য চারজন স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়ও তালিকাভুক্ত হয়েছে। অর্পিতা বিশ্বাস, সিনহা জাহান, শান্তি মার্ডি এবং তনিমা বিশ্বাস জরুরি অবস্থায় দলে যোগ দিতে প্রস্তুত। স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়দের উপস্থিতি দলকে আঘাতজনিত সমস্যার মোকাবিলায় সহায়তা করবে।
কোচের মতে, এই দলে নতুন খেলোয়াড়দের সংযোজন এবং অভিজ্ঞদের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি দলের সামগ্রিক শক্তি বাড়াবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রতিটি খেলোয়াড়ের নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে এবং দলগত সংহতি টুর্নামেন্টে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।
বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চীন, উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে এশিয়ান কাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি এই সুযোগকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চায়।



