18 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসাগর-রুনি হত্যার ১৪ বছর, পরিবার এখনও ন্যায়বিচার দাবি করছে

সাগর-রুনি হত্যার ১৪ বছর, পরিবার এখনও ন্যায়বিচার দাবি করছে

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা শহরের পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাড়িতে সংবাদমাধ্যমের কর্মী সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি একসাথে নিহত হন। দুজনের মৃত্যু ঘটার পর থেকে মামলাটি ১৪ বছর ধরে অগ্রসর হয়নি।

মৃত্যুর মা সালেহা মনি এখনও ন্যায়বিচার চাইতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জানিয়েছেন, তার শ্বাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি মামলাটি তাড়া চালিয়ে যাবেন।

সেই রাতের ঘটনা ঘটার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির রেজিস্ট্রেশনই প্রথম আইনি পদক্ষেপ ছিল।

প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব শেরেবাংলা নগর থানা থেকে এক উপ-পরিদর্শকের হাতে ছিল। চার দিন পর তদন্তের দায়িত্ব ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ডিবি দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত চালায়, তবে কোনো প্রমাণের মাধ্যমে হত্যাকারী চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়। তদন্তের অগ্রগতির অভাবে মামলাটি হাই কোর্টের নজরে আসে।

হাই কোর্টের নির্দেশে ১৮ এপ্রিল ২০১২-এ তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাব (র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) কে দেওয়া হয়। র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে বস্ত্র, জুতা, রক্তের নমুনা ইত্যাদি সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাবরেটরিতে পাঠায়।

ডিএনএ এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি, ফলে মামলায় নতুন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এই দেরি পরিবারকে গভীর হতাশায় ফেলেছে।

পরিবার ও সাংবাদিক সমিতি দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করে বিভিন্ন মঞ্চে আহ্বান জানায়। তবে তদন্তের ধীরগতি ও ফলাফলহীনতা নিয়ে অভিযোগ বাড়তে থাকে।

গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর র‌্যাবকে তদন্ত থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের সদস্যদের মধ্যে পিবিআই প্রধানকে আহ্বানকারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ অন্তর্ভুক্ত।

টাস্কফোর্সের কাজের সময়সীমা হাই কোর্টের নির্দেশে ছয় মাস নির্ধারিত হয়। তবে গঠনের পর চার মাসের বেশি সময়ে মামলায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি জানানো হয়নি।

মামলাটি ১২ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অচল রইছে। ২০১৯-২০২১ সালের অন্তর্বর্তী সরকারেও কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, এবং বর্তমান সরকারেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

সালেহা মনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, তিনি মা হিসেবে অপরাধীর শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত শান্তি পাবেন না। তার এই অটল ইচ্ছা মামলাটির দীর্ঘায়ুতে নতুন আলো জ্বালাবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments