রায়ান বেয়ারমাস্টার, যিনি ওপেনএআই-র প্রোডাক্ট নীতি বিভাগের উপ-সভাপতি হিসেবে কাজ করতেন, জানুয়ারি মাসে এক সহকর্মীর যৌন বৈষম্য অভিযোগের পর পদত্যাগের আদেশ পান। এই পদক্ষেপটি তার চ্যাটজিপিটি-র নতুন “adult mode” ফিচার নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা করার পর নেওয়া হয়। ঘটনাটি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং টেকক্রাঞ্চের রিপোর্টে প্রকাশ পায়।
বেয়ারমাস্টার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন এবং বলেন যে তিনি কখনোই কোনো কর্মীকে বৈষম্য করেননি। তার এই মন্তব্য প্রকাশের পরও ওপেনএআই ও বেয়ারমাস্টারের ব্যক্তিগত ইমেইল থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
“adult mode” নামে পরিচিত ফিচারটি চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তু, বিশেষ করে ইরোটিক্স, যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। এই ফিচারটি ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী নতুন ধরনের কন্টেন্ট সরবরাহের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়।
ওপেনএআই-র অ্যাপ্লিকেশনস সিইও ফিদজি সিমো জানিয়েছেন যে এই ফিচারটি এই বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে ফিচারটি নিরাপদে ব্যবহার নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বেয়ারমাস্টার এবং কোম্পানির অন্যান্য কর্মীরা “adult mode” এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে নাবালক ও সংবেদনশীল ব্যবহারকারীদের উপর এর নেতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা নিয়ে তারা সতর্কতা অবলম্বন করেন।
ওপেনএআই প্রকাশ্যে জানিয়েছে যে বেয়ারমাস্টার তার কর্মকালে মূল্যবান অবদান রেখেছেন এবং তার পদত্যাগ কোনো উত্থাপিত সমস্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। কোম্পানি তার অবদানের প্রশংসা করে এবং উল্লেখ করে যে তার প্রস্থানের কারণ অন্য কোনো বিষয় নয়।
বেয়ারমাস্টারের পেশাগত পটভূমি দেখলে দেখা যায় তিনি পূর্বে মেটা-র প্রোডাক্ট টিমে চার বছর কাজ করেছেন এবং প্যালান্টিরে সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পণ্য নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করেছে।
এই ঘটনার পর ওপেনএআই-র অভ্যন্তরীণ নীতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও কর্মচারীর মতামত গ্রহণের গুরুত্ব পুনরায় আলোচিত হচ্ছে। কর্মস্থলে বৈষম্য অভিযোগের দ্রুত সমাধান এবং ফিচার উন্নয়নে কর্মীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া প্রতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
“adult mode” ফিচারটি চালু হলে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে সমতা রক্ষা করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওপেনএআইকে নৈতিক দিক থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই বিষয়টি প্রযুক্তি শিল্পে ফিচার উন্নয়ন, কর্মচারীর অধিকার এবং ব্যবহারকারীর সুরক্ষার মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বজায় রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে ফিচার রোলআউটের আগে বিস্তৃত পর্যালোচনা ও স্টেকহোল্ডারদের মতামত সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।



