বিএনপি গতকাল রাজধানীতে অনুষ্ঠিত উচ্চপদস্থ নেতাদের বৈঠকে নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য বিশদ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশিকায় গ্রাসরুট নেতাবৃন্দ ও কর্মীদেরকে ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে উপস্থিতি বাড়িয়ে ভোটারদের হুমকি ও অনিয়ম রোধের লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী ১০০ থেকে ৫০০ পর্যন্ত পার্টি সদস্যকে বাহিরে স্থাপন করা হবে। বৃহত্তর কেন্দ্রগুলোতে বেশি কর্মী পাঠিয়ে ভোটারদের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য দলনেতা, কেন্দ্রনেতা এবং স্থলনেতা নির্ধারিত হবে, যারা সমগ্র কার্যক্রম তদারকি করবে এবং নির্দেশনা অনুসরণ নিশ্চিত করবে। এই তিন স্তরের নেতৃত্বের মাধ্যমে কেন্দ্রের সব কাজের সমন্বয় বজায় রাখা হবে।
ভোটের দিন ছাত্রদল, যুবদল, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং অন্যান্য সংযুক্ত সংগঠনগুলোর নেতা ও কর্মীরা তিন শিফটে তাদের নির্ধারিত কেন্দ্রে কাজ করবে। কর্মীদেরকে শান্তিপূর্ণ উপস্থিতি বজায় রাখতে বলা হয়েছে যাতে ভোটাররা কোনো ধরনের ভয়ভীতি অনুভব না করে।
পোলিং এজেন্টদেরকে ভোটার তালিকা যাচাই, ব্যালট বক্সের পরিদর্শন, সিল নিশ্চিতকরণ এবং লক নম্বর রেকর্ড করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ রেজিস্টার করতে হবে।
এছাড়া, পোলিং এজেন্টদেরকে প্রতি ঘণ্টায় ভোটের সংখ্যা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ সেল-এ পাঠাতে হবে এবং যদি বিএনপির অভ্যন্তরীণ গণনা কেন্দ্রের ফলাফলের সঙ্গে মেলে না, তবে ফলাফল নথিতে স্বাক্ষর করা যাবে না।
প্রতিটি পোলিং এজেন্টকে ৪০ থেকে ৫০টি অভিযোগ ফর্ম বহন করতে হবে এবং প্রতি কেন্দ্রের জন্য ১০০ থেকে ১৫০ টাকা প্রদান করা হবে। এই আর্থিক সহায়তা অভিযোগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে সহায়ক হবে।
একজন অংশগ্রহণকারী সূত্র উল্লেখ করেছেন, “যদি কোনো ভোটার ভোট দিতে না পারে অথবা অন্য কেউ তার পরিবর্তে ভোট দেয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ দাখিল করতে হবে এবং বিএনপি ভোটারকে অভিযোগ জমা দিতে সমর্থন করবে।” এই বক্তব্যে ভোটার অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট হয়েছে।
পোলিং এজেন্টদেরকে প্রথমে নিজে ভোট দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করা যায় এবং অমিটিং ইঙ্কের কার্যকারিতা নিশ্চিত হয়। এই প্রাথমিক ভোটদান অভ্যন্তরীণ গণনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
প্রধান পোলিং এজেন্ট প্রতি ঘণ্টায় গৃহীত ভোটের সংখ্যা গণনা করে তা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ সেল-এ প্রেরণ করবেন। এই রিয়েল-টাইম তথ্য কেন্দ্রের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করা হবে।
ভোটের সময়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ গণনা কেন্দ্রের ফলাফলের সঙ্গে মিলে যাওয়া এবং তা যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে কোনো পার্থক্য দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবস্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী দলগুলো এই পরিকল্পনাকে ভোটার নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে, তবে নির্বাচন কমিশন এখনও এই নির্দেশনার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন সম্পর্কে মন্তব্য করেনি। ruling party-এর প্রতিনিধিরা বলছেন, তারা সকল রাজনৈতিক দলের পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানাবে, তবে ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আইনগত কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি বিএনপির এই ব্যাপক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর হয়, তবে ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ বাড়বে এবং ভোটের অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ সেল ও স্থানীয় দলনেতার মধ্যে সমন্বয় না হলে সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সংগঠিত পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



