পাকিস্তানের প্রাক্তন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ আইসিসির (Icc) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলছেন, আইসিসি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বর্তমান সংকট মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছে এবং নিজের ভুল স্বীকার করা উচিত।
হাফিজের মতে, ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচের অচলাবস্থা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের মূল কারণ আইসিসির অপ্রতুল পরিচালনা। তিনি যুক্তি দেন, আইসিসি সঠিকভাবে পরিস্থিতি সামলাতে পারলে এই বিরোধ এড়ানো যেত।
একটি পাকিস্তানি টেলিভিশন চ্যানেলে হাফিজ উল্লেখ করেন, “আইসিসি যদি সঠিকভাবে হস্তক্ষেপ করত, তবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হতো না।” তিনি আরও বলেন, আইসিসির এই ব্যর্থতা ক্রীড়া জগতের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
বিসিসিআই (Bcci) এর নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিসিবি (Bcb) ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচে বাংলাদেশি দলকে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। এই সিদ্ধান্তকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান মহসিন নাকভি অন্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
পিসিবি এরপর বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে, ভারত‑পাকিস্তান গ্রুপের ম্যাচ থেকে দেশটি নিজে বাদ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে সরকার এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতিতে নতুন মোড় এনে দেয়।
আইসিসি হাফিজের মন্তব্যের পরও পাকিস্তানকে সতর্ক করার চেষ্টা করে, তবে পিসিবি তাদের অবস্থানে অটল থাকে। হাফিজের মতে, এই সতর্কতা যথেষ্ট নয় এবং আইসিসি আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
আইসিসি পরে জানায়, বাংলাদেশকে আর্থিক বা প্রশাসনিক কোনো শাস্তি আরোপ করা হবে না। এছাড়া, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে একটি আইসিসি টুর্নামেন্টের আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হবে।
হাফিজ এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “শাস্তি না দিয়ে ভবিষ্যতে টুর্নামেন্টের সুযোগ দেওয়া একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে আইসিসির স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা এখনও প্রশ্নের মুখে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রে রাজনীতির হস্তক্ষেপ ভক্তদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাফিজের মতে, আইসিসি সমস্যার সমাধানে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা তিনি ন্যায়সঙ্গত নয় বলে সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইসিসি যদি নিজের ভুল স্বীকার না করে, তবে ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার পুনরাবৃত্তি হবে।
ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচের প্রসঙ্গে হাফিজ উল্লেখ করেন, “এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রিকেটের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, তবে তা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে বদলে গেলে খেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বতন্ত্রতা রক্ষার আহ্বান জানান।
পাকিস্তান সরকার এবং পিসিবি হাফিজের মন্তব্যের পরও তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে, এবং আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো পরিবর্তন না করে চলবে। হাফিজের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আইসিসির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
সারসংক্ষেপে, হাফিজের তীব্র সমালোচনা আইসিসির পরিচালনায় ত্রুটি নির্দেশ করে এবং ভবিষ্যতে ক্রীড়া নীতি গঠনে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



