18 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধঅ্যাসিড গিলার শিকারদের অন্তর্ভুক্তি দাবিতে শাহিন মালিকের সুপ্রিম কোর্ট পিটিশন

অ্যাসিড গিলার শিকারদের অন্তর্ভুক্তি দাবিতে শাহিন মালিকের সুপ্রিম কোর্ট পিটিশন

হিন্দুস্তানীয় প্রতিবন্ধী অধিকার কর্মী শাহিন মালিক, অ্যাসিড আক্রমণের শিকারদের জন্য নতুন আইনি ব্যাখ্যা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। তিনি ২০১৯ সালে রুমানের স্বামী কর্তৃক গৃহহিংসার সময় গিলিয়ে দেওয়া অ্যাসিডের ফলে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়া না যাওয়ার সমস্যাকে তুলে ধরছেন।

রুমান, ২৮ বছর বয়সী, তার স্বামীর ওপর গৃহহিংসার অভিযোগে গিলিয়ে দেওয়া অ্যাসিডের ফলে গ্যাস্ট্রোইসোফেজের গুরুতর ক্ষতি ভোগ করেন। অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতি পুনর্গঠন করতে বহুবার শল্যচিকিৎসা করতে হয়, তবু তিনি এখনও খাবার গিলতে কষ্ট পান।

চিকিৎসা চলমান থাকা সত্ত্বেও রুমান প্রতিদিনের মৌলিক কাজেও শ্বাসকষ্টে ভুগেন। তার ওজন মাত্র ২১ কেজি, যা আট বছর বয়সী মেয়ের গড় ওজনের সমান, এবং শৌচাগার ব্যবহার করলেও দ্রুত ক্লান্তি অনুভব করেন। তার স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধানের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন।

ভারতের প্রতিবন্ধী অধিকার আইন, ২০১৬, কেবলমাত্র ত্বকে দৃশ্যমান বিকৃতি ঘটানো অ্যাসিড আক্রমণকে শিকার হিসেবে স্বীকার করে। গিলিয়ে দেওয়া অ্যাসিডের ফলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতি হওয়া রোগীদের এই আইনের আওতায় না আনা একটি বড় ফাঁক রয়ে গেছে।

শাহিন মালিক ডিসেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করে এই ফাঁকটি দূর করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন যে গিলিয়ে দেওয়া অ্যাসিডের শিকারদের শ্বাস, কথা বলা এবং খাবার গিলতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়, যা শারীরিকভাবে তীব্র কষ্টের সমান।

শাহিন, ৪২ বছর বয়সী, দশকের বেশি সময় ধরে অ্যাসিড আক্রমণের শিকারদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন। তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা তাকে এই আন্দোলনে ত্বরান্বিত করেছে, কারণ তিনি নিজেও ২০০৯ সালে হরিয়ানা রাজ্যের একটি কর্মস্থলে গিলিয়ে দেওয়া অ্যাসিডের শিকার ছিলেন।

সেই সময় শাহিনের বয়স ছিল কুড়ি, এবং তিনি ছাত্র পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন। আক্রমণের ফলে তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায় এবং শারীরিকভাবে বহুবার শল্যচিকিৎসা করতে হয়।

মোট ২৫টি শল্যচিকিৎসা সম্পন্ন করার পরও শারীরিক অক্ষমতা তার দৈনন্দিন জীবনে বড় বাধা সৃষ্টি করে। তিনি এখন প্রতিবন্ধী আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সুবিধা পেতে সক্ষম হলেও, গিলিয়ে দেওয়া অ্যাসিডের শিকারদের জন্য একই সুবিধা এখনও অনুপলব্ধ।

শাহিনের আইনি লড়াই ১৬ বছর আগে শুরু হয়, যখন তিনি তার আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘমেয়াদী বিচার প্রক্রিয়ার পরেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায়নি, যা তাকে আরও দৃঢ়ভাবে আইনি সংস্কারের পথে চালিত করেছে।

সুপ্রিম কোর্টে পিটিশনের পর, আদালত বিষয়টি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও চলমান, এবং শাহীনের দল আইনসভার সংশ্লিষ্ট কমিটিকে এই বিষয়টি উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে।

অ্যাসিড আক্রমণ সংক্রান্ত বর্তমান আইন, ২০১৬ সালের প্রতিবন্ধী অধিকার আইন, শুধুমাত্র ত্বকে দৃশ্যমান দাগের শিকারদের অন্তর্ভুক্ত করে। গিলিয়ে দেওয়া অ্যাসিডের ফলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতি হওয়া রোগীদের বাদ দেওয়া মানে তাদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করা।

শাহিনের পিটিশন যদি সফল হয়, তবে আইনগতভাবে গিলিয়ে দেওয়া অ্যাসিডের শিকারদেরও একই রকম পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। এই পরিবর্তন দেশের প্রতিবন্ধী অধিকার কাঠামোর সমতা ও ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করবে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments