যেকোনো সংঘাতের মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য সেনা সদর থেকে স্পষ্ট নির্দেশ জারি করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য প্রভাবশালী ৩,০০০ের বেশি ব্যক্তির তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের ওপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষ নজরদারি বজায় থাকবে।
গতকাল মঙ্গলবার, দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর টহল দেখা গিয়েছে; ঢাকার আজিমপুর এলাকায় বিশেষ মহড়া পরিচালনা করে সৈন্যদের প্রস্তুতি যাচাই করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী পরিবেশে অশান্তি রোধের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে মাঠে নেমে ভোট নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ ৮,৭৪৬টি ভোটকেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এই কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এমন ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হবে এবং তাদের নির্বাচন পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হবে না। এই নীতি অনুসরণ করে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ঝুঁকি কমানো এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।
বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯,৭০,০০০ের বেশি সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) ৫,৭৬,৪৮৩ জন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১,০৩,০০০ জন, নৌবাহিনী ৫,০০০ জন, বিমান বাহিনী ৩,৭৩০ জন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৩৭,৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩,৫৮৫ জন, পুলিশ ১,৮৭,৬০৩ জন, র্যাব ৯,৩৪৯ জন এবং চৌকিদার দফাদার ৪৫,৮২০ জন অন্তর্ভুক্ত।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ভোট কারচুপির কোনো আশঙ্কা নেই এবং কোনো প্রকার কারচুপির খবর পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারতীয় সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে; তবে সীমান্তের আট কিলোমিটার এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না, প্রয়োজনে বিশেষ অনুমোদনে সেনাবাহিনী পাঠানো হবে।
এই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং বৃহৎ মোতায়েনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম ঘটলে তা দ্রুত দমন করা সম্ভব হবে, ফলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা পুনরায় জোরদার হবে।



