মিলান-কোর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিকের নারী ক্লাসিক স্প্রিন্টের যোগ্যতা রাউন্ডে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই ক্রস-কান্ট্রি স্কি খেলোয়াড়, হান দাসোম এবং লি ইউইজিন, তাদের স্কির উপর ফ্লুরযুক্ত ওয়াক্স পাওয়া যাওয়ায় তৎক্ষণাৎ অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্কি ও স্নোবোর্ড ফেডারেশন (FIS) জানায়, উভয়ের সরঞ্জাম পরীক্ষায় ফ্লুরের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে, যা বর্তমান মৌসুমে নিষিদ্ধ পদার্থ।
ফ্লুর, অর্থাৎ ফ্লুরিনেটেড স্কি ওয়াক্স, ২০২৩-২৪ সিজন থেকে FIS-এর তালিকায় নিষিদ্ধ। মূলত জলরোধী গুণের জন্য নৌকায় ব্যবহার হতো, ১৯৮০-এর দশকে স্কি ক্রীড়ায় প্রবর্তিত হয়। তবে এটি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, কারণ এটি জৈবিকভাবে ভাঙে না এবং ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ হিসেবে পরিচিত।
FIS উল্লেখ করেছে যে ফ্লুরযুক্ত ওয়াক্সের ব্যবহার প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিতে পারে, তাই এই ধরনের পদার্থের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হান ও লি উভয়ের বিশ্বকাপ র্যাঙ্কিং যথাক্রমে ১৫৭ এবং ১৫৮, যা তাদেরকে মাইলান-কোর্টিনা গেমসে পদক জয়ের সম্ভাবনা কম বলে নির্দেশ করে।
অযোগ্যতার সিদ্ধান্তের পর, উভয় ক্রীড়াবিদকে স্প্রিন্টের যোগ্যতা রাউন্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ফলাফল রেকর্ডে অস্বীকৃত হবে। এই পদক্ষেপটি FIS-এর নীতি অনুসারে নেওয়া হয়েছে, যা সকল প্রতিযোগীর ন্যায্যতা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে।
বিবিসি (Bbc) অনুসারে, অলিম্পিকের অন্যান্য ইভেন্টে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা পূর্বে বহুবার প্রয়োগ হয়েছে, এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ফ্লুরের ব্যবহার না করা সত্ত্বেও, স্কি সরঞ্জামের নিয়মিত পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ চালু রয়েছে।
এই ঘটনার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার স্কি দলকে তীব্র সমালোচনা ও পুনর্বিবেচনার মুখোমুখি হতে হবে। দলীয় ব্যবস্থাপনা এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি, তবে ভবিষ্যতে সরঞ্জাম নির্বাচনে আরও কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব।
অলিম্পিকের সময়সূচি অনুযায়ী, নারী ক্লাসিক স্প্রিন্টের পরবর্তী রাউন্ডে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীরা প্রতিযোগিতা করবে। ফ্লুরযুক্ত ওয়াক্সের ব্যবহার না করা স্কি দলগুলোকে এখনো সুযোগ রয়েছে, এবং তারা শীর্ষস্থান অর্জনের জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
এই অযোগ্যতা স্কি ক্রীড়ায় ডোপিং ও নিষিদ্ধ পদার্থের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতীয় ফেডারেশনগুলো এখনো এই ধরনের লঙ্ঘন রোধে কঠোর নীতি বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে।
অলিম্পিকের অন্যান্য ক্রীড়া শাখায়ও একই ধরনের নিয়মাবলী প্রযোজ্য, এবং প্রতিটি খেলোয়াড়কে তাদের সরঞ্জাম ও পারফরম্যান্সের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার স্কি সংস্থা এখনো এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আপিল দায়ের করেছে কিনা তা স্পষ্ট নয়, তবে FIS-এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অবশেষে, অলিম্পিকের দর্শক ও মিডিয়া কভারেজে এই ঘটনা উল্লেখযোগ্য স্থান পেয়েছে, এবং বিবিসি (Bbc) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চ্যানেল এই বিষয়টি বিশদভাবে জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে স্কি ক্রীড়ায় নিষিদ্ধ পদার্থের ব্যবহার না করার জন্য আরও কঠোর নজরদারি প্রত্যাশিত।



