স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগের এই ম্যাচে চেলসির মুখোমুখি লিডস ইউনাইটেডকে ২-২ সমতা অর্জন করতে হয়। লিডসের রক্ষণশীল কৌশল এবং চেলসির শেষ মুহূর্তের অযত্নের ফলে দু’দলই এক পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে, যা লিডসের বেঁচে থাকার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রারম্ভিক ২০ মিনিটে চেলসির আক্রমণাত্মক চালচলন স্পষ্ট ছিল। কোচ লিয়াম রোজেনিয়রের নির্দেশে দলটি দ্রুত পাস ও রোটেশন ব্যবহার করে লিডসের রক্ষাকে ভাঙতে চেয়েছিল। তবে শুটিং সুযোগগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়ে দলটি দুই গোলের আগে শূন্যে আটকে থাকে।
লিডসের প্রথম গোলটি ৩৫তম মিনিটে নোয়া ওকাফরের পেনাল্টি থেকে আসে। লুকাস এনমেচা পেনাল্টি জোনে ডিফেন্ডারকে ফাঁকিয়ে দিয়ে বলটি নেটের নিচে পাঠায়, ফলে চেলসির ২-১ তে পিছিয়ে যায়। এই মুহূর্তে চেলসির অপ্রয়োজনীয় শটের সংখ্যা বাড়তে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে লিডসের রক্ষণশীল পদ্ধতি আরও দৃঢ় হয়। দলটি পাঁচজন ডিফেন্ডারকে মূল রক্ষণে রাখে এবং অতিরিক্ত একজনকে মাঝখানে অবস্থান করিয়ে শারীরিকভাবে ম্যাচকে কঠিন করে তোলে। এই কৌশল চেলসির পাসিং গতি কমিয়ে দেয় এবং তাদের আক্রমণকে বাধাগ্রস্ত করে।
চেলসির আক্রমণাত্মক বিকল্পগুলোতে কোল প্যালমার, আন্দ্রে স্যান্টোস এবং মার্ক কুকুরেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্যালমার মাঝখানে দৌড়ে সেবাস্টিয়ান বর্নাউকে সতর্ক করে এবং তার ফলস্বরূপ বর্নাউয়ের কার্ডে রঙিন হয়। স্যান্টোসের সুনির্দিষ্ট পাস প্যালমারকে সুযোগ দেয়, তবে শেষ শটটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না।
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে লিডসের দ্বিতীয় গোল আসে, যখন লুকাস এনমেচা আবারও পেনাল্টি জোনে প্রবেশ করে এবং চেলসির ডিফেন্ডারকে ফাঁকিয়ে দেয়। তবে চেলসির রক্ষণ এখনো অস্থির, এবং ওকাফরের সমান করার সুযোগ আসে ৭৫তম মিনিটে।
নোয়া ওকাফর লিডসের সমান গল করে, যা ম্যাচকে ২-২ ড্রয়ে নিয়ে আসে। ওকাফরের গলটি চেলসির শেষ মুহূর্তের অযত্নের পরিপ্রেক্ষিতে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা যায়। এই সমতা চেলসির জন্য অষ্টম জয় অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, যদিও রোজেনিয়রের প্রথম দশ ম্যাচে আটটি জয় অর্জনের লক্ষ্য ছিল।
চেলসির অপ্রয়োজনীয় শটের সংখ্যা এবং পেনাল্টি সুযোগের ব্যবহার না করা তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করে। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে ডিফেন্সিভ ত্রুটি পুনরায় দেখা যায়, যা লিডসের পেনাল্টি অর্জনে সহায়তা করে। রোজেনিয়র এই পরিস্থিতি নিয়ে হতবাক হয়ে দেখেছেন, যদিও তিনি দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিকও লক্ষ্য করেছেন।
লিডসের কোচ ড্যানিয়েল ফার্কে দলের রক্ষণশীল কৌশলকে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছিলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল চেলসির আক্রমণকে সীমাবদ্ধ করা এবং দ্রুত কনট্রা-আক্রমণে সুযোগ তৈরি করা। এই পরিকল্পনা কার্যকর হয়েছে, কারণ লিডসের ডিফেন্সিভ শৃঙ্খলা চেলসির শটগুলোকে সীমিত করেছে।
চেলসির নতুন প্রধান কোচ লিয়াম রোজেনিয়র গত মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দলকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। যদিও তার প্রথম মাসে কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত দেখা গেছে, তবে এই ম্যাচে দলের অযত্নের অভ্যাস পুনরায় প্রকাশ পেয়েছে। রোজেনিয়র দলের মনোবল বাড়াতে এবং শেষ মুহূর্তে শটের গুণগত মান উন্নত করতে জোর দিচ্ছেন।
পরবর্তী ম্যাচে চেলসি হোম গ্রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মুখোমুখি হবে, যেখানে তারা পুনরায় জয় অর্জনের চেষ্টা করবে। লিডস ইউনাইটেডের জন্য এই পয়েন্টটি বেঁচে থাকার পথে গুরুত্বপূর্ণ, এবং তারা পরের গেমে পয়েন্ট বাড়াতে চায়। উভয় দলই শীঘ্রই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, যা তাদের মৌসুমের দিক নির্ধারণ করবে।



