মঙ্গলবার, জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, এ কথা বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান এএফপিকে তার নিজ অফিস থেকে জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বললেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতি না থাকলে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।
২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে গৃহীত অভ্যুত্থানের পর শীঘ্রই শেষ হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনকে উচ্ছেদ করার পর দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তারেক রহমানের মতে, এই অস্থিরতা দূর করতে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রথম কাজ হবে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে, তিনি উল্লেখ করেন যে আওয়ামী লীগের প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে দেশের আর্থিক অবস্থা ধ্বংসের পথে অগ্রসর হয়েছে। জনগণের দারিদ্র্য ও বেকারত্বের হার বাড়ার মূল কারণকে তিনি সরকারের নীতিমালার সঙ্গে যুক্ত করেন।
মেগা প্রকল্পের নামে যে দুর্নীতি ঘটেছে, তা কয়েকজনের সম্পদ বাড়িয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ জনগোষ্ঠীকে কোনো উপকার হয়নি—এটাই তারেক রহমানের মূল অভিযোগ। তিনি বলেন, বড় বড় প্রকল্পের নামেই যে স্বার্থপরতা ও সম্পদ সঞ্চয় হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কোনো অবদান রাখেনি।
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তিনি ব্যবসা‑বাণিজ্য বাড়িয়ে তরুণ বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। দেশের বিশাল বেকার তরুণদের জন্য নতুন চাকরি সৃষ্টির লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে, এ কথাই তিনি জোর দিয়ে বলেন।
বিএনপি নেতৃত্বের সুযোগ পেলে, তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চেয়ে ভালো কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, তিনি তাদের চেয়ে উন্নত নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট হবেন।
তিনি সতর্ক করে জানান, দেশের ১৭ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে। পূর্ববর্তী শাসনামলে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতের অবনতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এ বিষয়টি তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন।
বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি নির্বাচনী লড়াইয়ে অগ্রগামী, তবে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন জোটের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। এই জোটের চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির কৌশলগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
তাঁরেক রহমান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি দেশের নেতৃত্বে ফিরে এসে আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।



