বিখ্যাত টক শো হোস্ট বিল মাহার সম্প্রতি ক্লাব র্যান্ডম পডকাস্টে তার এবং জিমি কিমেল-এর বন্ধুত্বের অবনতি সম্পর্কে স্পষ্ট মন্তব্য করেন। তিনি জানান, গত বছরের শেষের দিকে দুজনের মধ্যে একটি তর্ক ঘটেছিল যা সম্পর্ককে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মাহার এই কথায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দুজনের মধ্যে পুনর্মিলন এখনো সম্ভব নাও হতে পারে। এই প্রকাশনা টিভি ও স্ট্রিমিং জগতের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ক্লাব র্যান্ডম পডকাস্টটি টুবি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয় এবং এতে কমেডি অভিনেতা অ্যাডাম ক্যারোল্লা সহ-আতিথেয়তা করেন। ক্যারোল্লা ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত কমেডি সেন্ট্রালে “দ্য ম্যান শো”-এ জিমি কিমেল-এর সঙ্গে কাজ করেছেন, ফলে তিনি দুজনের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন। মাহার একই সঙ্গে এইচবিও-তে তার প্যানেল শো “রিয়েল টাইম উইথ বিল মাহার” এবং টুবিতে একক সাক্ষাৎকার শো “ক্লাব র্যান্ডম” পরিচালনা করেন। পডকাস্টে তিনি ক্যারোল্লাকে সরাসরি জিমি কিমেল সম্পর্কে তার অনুভূতি জানাতে বলেন।
মাহার উল্লেখ করেন, জিমি কিমেল তার প্রতি খুব রাগান্বিত এবং তিনি জানেন ক্যারোল্লা কিমেল-এর কাছাকাছি। তিনি ক্যারোল্লাকে অনুরোধ করেন, কিমেলকে তার দুঃখ প্রকাশের বার্তা পৌঁছে দিতে, যদিও মাহার নিজে মনে করেন তিনি কোনো ভুল করেননি। তিনি বলেন, মতবিরোধ স্বাভাবিক এবং দুজনের মধ্যে এখনো কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব। তবু তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান অবস্থা তাদের মধ্যে কথোপকথন বন্ধের দিকে নিয়ে গেছে।
মাহার তর্কের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না করলেও, বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে বিষয়টি কিমেল-এর স্ত্রী মলি ম্যাকনিয়ার্নি সম্পর্কে মন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত। ম্যাকনিয়ার্নি জিমি কিমেল লাইভ! শোর সহ-হেড রাইটার এবং এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার, এবং সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রাজনৈতিক মতবিরোধের ফলে পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষতি নিয়ে কথা বলেছেন। তার বিবৃতি অনুযায়ী, ট্রাম্প সমর্থক পরিবার সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছে, যা কিমেল ও ট্রাম্পের মধ্যে চলমান তর্কের সঙ্গে যুক্ত।
ম্যাকনিয়ার্নি নভেম্বর মাসে “উি ক্যান ডু হার্ড থিংস” পডকাস্টে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে তার স্বামী জিমি কিমেল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করছেন। এই পরিস্থিতি কিমেল ও ট্রাম্পের মধ্যে শব্দযুদ্ধকে তীব্রতর করেছে এবং মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তদুপরি, গ্রীষ্মকালে এবিসি-র মূল মালিক ডিজনি, জিমি কিমেল লাইভ! শোকে অস্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ শোতে ট্রাম্পের প্রতি তীব্র সমালোচনা করা হয়েছিল। তবে জনমত ও ভক্তদের তীব্র প্রতিবাদে শোটি দ্রুত পুনরায় চালু করা হয়।
ডিজনি-র এই পদক্ষেপের পর শোটি পুনরায় সম্প্রচারিত হলেও, কিমেল ও মাহারের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি অব্যাহত রয়েছে। মাহার পডকাস্টে উল্লেখ করেন, তিনি কিমেলকে ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তবে কিমেল এখনও তার প্রতি রাগান্বিত। মাহার বলেন, তিনি কোনো ভুল করেননি এবং মতবিরোধের জন্য দুজনের মধ্যে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। তবু তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের বন্ধুত্বের শেষের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
বিল মাহার এখনো তার টুকরো শো এবং এইচবিও-র প্যানেল শো চালিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। জিমি কিমেল লাইভ! শোও এবিসি-তে পুনরায় শুরু হয়েছে, যদিও শোয়ের বিষয়বস্তু ও টোনে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। দুজনের পেশাগত কার্যক্রমে কোনো বাধা না থাকলেও, ব্যক্তিগত সম্পর্কের এই ফাটল মিডিয়া বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সারসংক্ষেপে, বিল মাহার এবং জিমি কিমেল-এর মধ্যে তর্কের ফলে বন্ধুত্বের অবসান ঘটেছে এবং দুজনের পুনর্মিলনের সম্ভাবনা অনিশ্চিত রয়ে গেছে। এই ঘটনা টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং জগতের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাবকে পুনরায় উন্মোচন করেছে, যেখানে রাজনৈতিক মতবিরোধ ও পাবলিক মন্তব্যের পরিণতি কখনো কখনো পেশাগত সাফল্যের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।



