18 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমোটরসাইকেল চলাচলে ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা, নির্দিষ্ট যানবাহন ও কাজের জন্য ছাড়

মোটরসাইকেল চলাচলে ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা, নির্দিষ্ট যানবাহন ও কাজের জন্য ছাড়

বাংলাদেশ সরকার ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টায় মোটরসাইকেল চলাচলে ৭২ ঘণ্টার সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নিষেধাজ্ঞা ঢাকা ও অন্যান্য প্রধান শহরে প্রযোজ্য, তবে কিছু যানবাহন ও কাজের জন্য ছাড় প্রদান করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় হবে। অনুমোদিত পর্যবেক্ষক ও জরুরি সেবায় নিযুক্ত যানবাহনকে এই সীমাবদ্ধতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অগ্নি নির্বাপন, পুলিশ, স্বাস্থ্যসেবা, রক্তদান ও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী গাড়ি, সাইকেল ও মোটরসাইকেল নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত থাকবে। এসব যানবাহনকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পত্র বা পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা সামগ্রী এবং অনুরূপ জরুরি পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত সব ধরনের গাড়ি ও মোটরসাইকেলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই যানবাহনগুলোকে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স ও অনুমোদন পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ও অন্যান্য মুদ্রণ সামগ্রী বহনকারী সব ধরনের যানবাহনকে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের গাড়ি চালকের পরিচয়পত্র ও প্রকাশনা সংস্থার অনুমোদন পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

বিমানবন্দরে আত্মীয়স্বজনের জন্য যাত্রা করা বা বিমানবন্দর থেকে গৃহে ফেরার সময় টিকিট বা সমমানের প্রমাণ দেখালে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল অনুমোদিত হবে। এই ছাড়ের জন্য রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার লাগানো বাধ্যতামূলক।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একক ও তার নির্বাচনী এজেন্টের জন্য ছোট আকারের যানবাহন ব্যবহার করা যাবে, শর্ত হল যথাযথ নিয়োগপত্র বা পরিচয়পত্র থাকা এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন প্রাপ্তি।

সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং জরুরি কাজে নিযুক্ত অন্যান্য ব্যক্তির ব্যবহৃত গাড়ি ও মোটরসাইকেলকে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পত্র ও স্টিকার প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।

নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, কর্মচারী বা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত মোটরসাইকেল ব্যবহার করা যাবে। এই গাড়িগুলোকে রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

টেলিযোগাযোগ সেবা জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বিটিআরসি ও বিটিআরসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহনকে নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনুমোদন পত্র ও লাইসেন্স বহন করা আবশ্যক।

জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর, আন্তঃজেলা ও মহানগর সংযোগ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোর প্রবেশ ও প্রস্থানেও এই ছাড় প্রযোজ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোটরসাইকেল ব্যবহার দেশের শহরগুলোতে ট্রাফিক জ্যাম ও দুর্ঘটনা বাড়িয়ে তুলছে, বিশেষ করে নির্বাচনী সময়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী চালকদের বিরুদ্ধে জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত বা গাড়ি জব্দের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োগের তদারকি স্থানীয় পুলিশ ও রিটার্নিং অফিসারদের সমন্বয়ে করা হবে।

নাগরিকদের মধ্যে এই পদক্ষেপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কিছুজন নিরাপত্তা বাড়বে বলে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে দৈনন্দিন যাতায়াতের উপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এই নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনী পরিবেশে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ ভোটার চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো এই পদক্ষেপকে সমর্থন বা সমালোচনা করতে পারে, তবে সরকার জানিয়েছে যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও তদারকি চালিয়ে যাবে।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সরকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় হলে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রাখবে। এই প্রক্রিয়ায় সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত বিবেচনা করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments