18 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাপিসিবি চেয়ারম্যানের মতে বাংলাদেশের প্রাপ্য সম্মান পুনরুদ্ধারই ছিল পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য

পিসিবি চেয়ারম্যানের মতে বাংলাদেশের প্রাপ্য সম্মান পুনরুদ্ধারই ছিল পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি গত মঙ্গলবার পেশোয়ারে সাংবাদিকদের সামনে ব্যাখ্যা করেন, সাম্প্রতিক আইসিসি‑পিসিবি‑বিসিবি ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের প্রতি করা অবিচার সংশোধন করা এবং তাকে প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া।

পাকিস্তান সরকার ১ ফেব্রুয়ারি জানিয়ে ছিল যে, টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত গ্রুপ ম্যাচে তারা অংশ নেবে না এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর ম্যাচে মাঠে নামবে না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও রাজনৈতিক চাপকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

বহুদিনের টানা আলোচনা এবং আইসিসি, পিসিবি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর, সোমবার রাতেই পাকিস্তান সরকার তার বয়কটের ঘোষণা প্রত্যাহার করে। বৈঠকে উভয় পক্ষের উদ্বেগ শোনার পর, পাকিস্তান সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এবং নির্ধারিত ম্যাচে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেয়।

বৈঠোর পর আইসিসি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, জানায় যে, ভারতে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে বাংলাদেশকে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পাশাপাশি, ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্টের আয়োজকত্বের অধিকার বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থানকে পুনরায় সুনিশ্চিত করেছে।

পেশোয়ারের সম্মেলনে নাকভি স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশ ছাড়া আমাদের আলোচনার কোনো শর্ত ছিল না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের ভিত্তিতে নয়।

আইসিসি বোর্ডের ভোটে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে, স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের পরিবর্তে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে ভারতীয় মাটিতে দল পাঠাতে অনুমতি না দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। নাকভি পূর্বে এই সিদ্ধান্তকে “দ্বিমুখী নীতি” বলে সমালোচনা করে থাকেন।

বৈঠকে পাকিস্তানের অবস্থান পুনরায় ব্যাখ্যা করার সময় নাকভি বলেন, “বাংলাদেশ যা চেয়েছে, সবই মেনে নেওয়া হয়েছে। আমাদের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না। সরকারও সেই বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, অবিচার স্বীকার করা এবং বাংলাদেশের দাবি পূরণ হওয়ার পরই পাকিস্তান আবার ম্যাচে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই ব্যাখ্যা থেকে স্পষ্ট হয় যে, পাকিস্তান সরকার ও পিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ন্যায়বিচার রক্ষায় বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করেছে। আইসিসি কর্তৃক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ ইভেন্টের আয়োজকত্বের অধিকার প্রদান করা, উভয় পক্ষের জন্যই একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পিসিবি চেয়ারম্যানের মন্তব্যে দেখা যায়, পাকিস্তান শুধুমাত্র ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে চেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “যখন স্বীকার করা হয়েছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এবং তাদের দাবি মানা হয়েছে, তখনই আমরা আবার খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” এই বক্তব্যটি দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অধিকন্তু, আইসিসি কর্তৃক বাংলাদেশকে ২০২৮‑২০৩১ সালের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজকত্বের অধিকার প্রদান, দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই সুযোগটি ব্যবহার করে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও বড় ইভেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে।

পরবর্তী সময়ে, পাকিস্তান দল নির্ধারিত গ্রুপ ম্যাচে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিডিউল অনুসরণ করবে। উভয় দলই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের পারফরম্যান্স উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করবে, এবং এই ঘটনাটি ক্রীড়া ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments