ব্রিটিশ অভিনেত্রী ফিওনা শো, স্কটল্যান্ডের ১৯১০ সালের এডিনবরা শহরে স্থাপিত একটি ঐতিহাসিক নাট্যচিত্রে প্রধান চরিত্রে রূপ নেন। ছবির নাম ‘দ্য এডুকেশন অফ জেন কুমিং’, যা প্রথমবারের মতো বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্যানোরামা বিভাগে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্বপ্রদর্শনী পাবে। ছবিটি দুই নারী শিক্ষককে কেন্দ্র করে, যারা ঐ সময়ের প্রচলিত রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ করে একটি আধুনিক মেয়েদের বিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করে।
এই চলচ্চিত্রটি হলেন সোপি হেল্ডম্যানের দ্বিতীয় দিকনির্দেশনা, যিনি ইংরেজি ভাষায় প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাজের জন্য স্বাক্ষরিত। হেল্ডম্যান এবং অভিনেত্রী ফ্লোরা নিকলসন একসাথে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন, যা লিলিয়ান ফাদারম্যানের অ-কাল্পনিক গ্রন্থ ‘Scotch Verdict: Miss Pirie and Miss Woods v. Dame Cumming Gordon’ থেকে অনুপ্রাণিত। হেল্ডম্যানের পূর্বের কাজ ‘Colors in the Dark’ এর সাফল্যের পর, এই নতুন প্রকল্পটি তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি আরও প্রসারিত করেছে।
চিত্রের মূল কাহিনী দুই নারী শিক্ষককে অনুসরণ করে, যারা ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থার সীমা অতিক্রম করে একটি প্রগতিশীল মেয়েদের স্কুল চালু করে। তবে, এক শিক্ষার্থীর দ্বারা গোপনীয় প্রেমের অভিযোগ উন্মোচিত হলে, সমাজের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং মিডিয়ার তাড়া তাদের পেশাগত জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে। এই সংঘর্ষের ফলে শিক্ষকদ্বয়কে তাদের কর্মজীবন রক্ষার জন্য কঠোর লড়াই করতে হয়।
এই ঘটনাটি স্কটল্যান্ডের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মামলা হিসেবে পরিচিত, যেখানে দুই নারী শিক্ষকের মধ্যে গোপনীয় সম্পর্কের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি আইনি প্রক্রিয়া চালু হয়। লিলিয়ান ফাদারম্যানের গবেষণামূলক কাজটি ঐ সময়ের সামাজিক নীতি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে বিশ্লেষণ করে, এবং চলচ্চিত্রটি ঐ ঐতিহাসিক ঘটনার ভিত্তিতে নির্মিত।
১৯৩৪ সালে লিলিয়ান হেলম্যানের ‘দ্য চিলড্রেনস আওয়ার’ নাটকও একই মামলার ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছিল, যা পরে ১৯৬১ সালে উইলিয়াম ওয়াইলারের পরিচালনায় একই নামের চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়। ঐ চলচ্চিত্রে অড্রি হেপবার্ন, শার্লি ম্যাকলেইন এবং জেমস গ্যারনার প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। ‘দ্য এডুকেশন অফ জেন কুমিং’ ঐ ঐতিহাসিক কাহিনীর নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে, যেখানে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমসাময়িক সামাজিক প্রশ্নগুলোকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কাস্টে ফিওনা শোর পাশাপাশি ফ্লোরা নিকলসন, ক্লেয়ার ডান, মিয়া থারিয়া, সেডি শিমিন এবং স্টিফেন ম্যাককোলের নাম উল্লেখযোগ্য। ফ্লোরা নিকলসন, যিনি ‘ডার্কেস্ট আওয়ার’ এবং ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ ছবিতে কাজ করেছেন, চিত্রনাট্য রচনায়ও অংশগ্রহণ করেছেন। ক্লেয়ার ডান এবং মিয়া থারিয়া যথাক্রমে ‘হার্সেলফ’ ও ‘সেপ্টেম্বর সেজ’ চলচ্চিত্রে পরিচিত। সেডি শিমিন ও স্টিফেন ম্যাককোল ছবির সহায়ক চরিত্রে উপস্থিত থাকবেন।
উৎপাদন দিক থেকে, ছবিটি হেইমাটফিল্মসের বেটিনা ব্রোকেম্পার পরিচালিত, এবং কারিন কোচের ডশোইন্ট ভেন্টশ্র ফিল্মপ্রোডাকশন ও নাদিরা মারির সিলফ প্রোডাকশনসের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি। এছাড়া জার্মান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ডব্লিউডিআর/আর্তে এবং সুইস রেডিও ও টেলিভিশন SRF/SRG-ও এই প্রকল্পে সমর্থন প্রদান করেছে।
বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্যানোরামা বিভাগে এই চলচ্চিত্রের বিশ্বপ্রদর্শনী, স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। উৎসবের আয়োজকরা ছবিটিকে “সময়ের সীমা অতিক্রম করে সমসাময়িক প্রশ্ন উত্থাপনকারী” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
টিএইচআর (THR) এখন পর্যন্ত ছবির এক এক্সক্লুসিভ টিজার প্রকাশ করেছে, যেখানে ফিওনা শো এবং অন্যান্য প্রধান অভিনেতাদের সংক্ষিপ্ত দৃশ্য দেখা যায়। টিজারটি সামাজিক মিডিয়ায় ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া পেয়েছে, এবং দর্শকরা ছবির ভিজ্যুয়াল স্টাইল ও ঐতিহাসিক পরিবেশের প্রশংসা করছেন।
‘দ্য এডুকেশন অফ জেন কুমিং’ কেবল একটি ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি লিঙ্গ সমতা, শিক্ষার অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নগুলোকে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করে। চলচ্চিত্রটি স্কটল্যান্ডের অতীতের একটি অন্ধকার অধ্যায়কে আলোকিত করে, এবং একই সঙ্গে সমসাময়িক দর্শকদের জন্য প্রাসঙ্গিক বার্তা প্রদান করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে আরও বেশি চলচ্চিত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সংস্কৃতি ও সমাজের মধ্যে সংলাপকে সমৃদ্ধ করবে।



