বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা নাফিস আহমেদ নাদভী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন যে চলমান টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশ না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকার নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের যৌথ সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে, এবং স্কটল্যান্ডকে পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রথমে ২২ জানুয়ারি interim সরকারী আইনসভার সদস্যের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া সরকারী নির্দেশনা। একই দিনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাদেরকে সরকারী সিদ্ধান্তের পটভূমি ব্যাখ্যা করা হয় এবং কোনো আলোচনা বা অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া হয়।
নাফিস আহমেদ নাদভী ওই বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছিলেন, “খেলোয়াড়দেরকে সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ব্যাখ্যা করা এবং প্রেক্ষাপট জানানোই মূল উদ্দেশ্য ছিল, অন্য কোনো বিষয় নয়।” তিনি যোগ করেন যে বৈঠকটি শুধুমাত্র তথ্য প্রদানমূলক ছিল।
সেই সময়ে তিনি আইসিসি থেকে ন্যায়বিচার না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বিশ্বকাপ খেলব কি না, তা সম্পূর্ণভাবে সরকারী সিদ্ধান্ত।” এই মন্তব্যের পরেও তিনি সরকারকে টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহারের জন্য দায়ী হিসেবে উল্লেখ করেন।
কিন্তু মঙ্গলবারের ঘোষণায় নাফিস আহমেদ নাদভী সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। তিনি জানিয়ে দেন যে টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দেরই নেওয়া, এবং এটি দেশের ক্রিকেটের নিরাপত্তা, জনগণের সুরক্ষা ও জাতীয় গৌরব রক্ষার জন্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিশ্বকাপ না খেলার কোনো অনুশোচনা নেই। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের দ্বারা নেওয়া হয়েছে, যারা দেশের ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষায় ত্যাগ স্বীকার করেছেন।” তার এই মন্তব্যে সরকারকে বাদ দিয়ে কেবল বোর্ড ও খেলোয়াড়দের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।
নাফিস আহমেদ নাদভী আইসিসির প্রতিক্রিয়ার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “আইসিসি বলেছে যে কোনো শাস্তি আরোপ করা হবে না এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজক হিসেবে বিবেচনা করা হবে।” তিনি এই সিদ্ধান্তকে “উজ্জ্বল অর্জন” বলে প্রশংসা করেন।
আইসিসি কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশকে শাস্তি না দিয়ে ভবিষ্যতে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজনে সুযোগ দেওয়া হবে। এই নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার ফলে স্কটল্যান্ডকে পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের দল এখন টি২০ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে এবং তাদের সূচি অনুযায়ী ম্যাচে অংশ নেবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের পর স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার অফিসিয়াল তালিকায় যুক্ত হয়েছে। ফলে টুর্নামেন্টের কাঠামো ও গ্রুপিং পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সকল দলের জন্য নতুন সূচি তৈরি করেছে।
সংক্ষেপে, ২২ জানুয়ারি সরকারী নির্দেশনা থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি নাফিস আহমেদ নাদভীর নতুন ব্যাখ্যা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। প্রথমে সরকারকে দায়ী করা হয়, পরে বোর্ড ও খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, এবং আইসিসির কোনো শাস্তি না দেওয়ার নিশ্চিতকরণে বিষয়টি সমাপ্ত হয়েছে।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আইসিসির সহযোগিতা এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজকত্বের আলোচনা চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আলোচনার ফলাফল টিমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে প্রভাব ফেলবে।



