ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪০,২০৬টি চিঠি পেয়েছেন, যেখানে দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে নাগরিকদের দাবি, উদ্বেগ ও আশা-আশা প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিগুলোতে ব্যক্তিগত দুঃখ, পাবলিক সার্ভিসের হয়রানি মুক্তি, রাষ্ট্রযন্ত্র সংস্কার, জুলাই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার, লিঙ্গ সমতা, শিশুর নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
চিঠির সংখ্যা অনুযায়ী বিভাগীয় ভাঙ্গন প্রকাশ করা হয়েছে: ঢাকা থেকে ১০,২১৬টি, চট্টগ্রাম থেকে ৬,০০৬টি, সিলেট থেকে ১,৬৫১টি, বরিশাল থেকে ২,১২৪টি, খুলনা থেকে ৪,৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩,৬০৫টি, রাজশাহী থেকে ৫,৭৩৮টি এবং ময়মনসিংহ থেকে ১,৭৯৯টি। মোট ২,১৬৯টি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরসহ দূরবর্তী এলাকায় ভোটের গাড়ি চালিয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
গাজীপুরের ১০ বছর বয়সী রাফা তার চিঠিতে দেশের মাটি ও বাতাসের মধ্যে নিরাপদ জীবনযাপনের পরিবেশের স্বপ্ন তুলে ধরেছেন এবং নীতি-নির্ধারক নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইভাবে কুমিল্লার দেওয়ান সালাহউদ্দিন সুষ্ঠু ভোটের সুযোগের দাবি করে, ভোট কেন্দ্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামা না করার গুরুত্ব উল্লেখ করে, প্রধান উপদেষ্টা থেকে স্বচ্ছ ভোট ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেছেন।
চট্টগ্রাম থেকে প্রাইভেট সেক্টরে কর্মরত গোলাম রাব্বানি তার কর্মস্থলে ভোটের সুযোগ চেয়ে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁয়ের একজন নাগরিক গরিব মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট তুলে ধরে, বাজারে সিন্দিকেটের উপস্থিতি ও গরুর মাংসের অপ্রাপ্যতা উল্লেখ করে, বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছেন।
বরিশালের সাদিক শিক্ষকদের মানোন্নয়নের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে, উন্নত মানের শিক্ষার ভিত্তিতে আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। পিরোজপুরের এক নাগরিক সকল ধর্মের মানুষের অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন বাংলার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিগুলোতে কিছু অংশে সরকারকে সরাসরি সমালোচনা করা হয়েছে, তবে অধিকাংশেই গঠনমূলক প্রস্তাব ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অফিসে জমা হওয়া এই বৃহৎ পরিসরের মতামত সংগ্রহের উদ্দেশ্য হল নাগরিকদের সরাসরি শোনার মাধ্যমে নীতি প্রণয়নে অন্তর্ভুক্ত করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটের গাড়ি চালিয়ে ২,১৬৯টি স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে, যা দেশের গ্রামীন ও শহুরে এলাকায় ভোটের প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। এই প্রচারণা নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের তথ্য প্রদান, প্রশ্নোত্তর সেশন এবং ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য পরিকল্পিত ছিল।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দল চিঠিগুলো বিশ্লেষণ করে, নাগরিকদের প্রধান উদ্বেগ ও প্রস্তাবগুলোকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এই মতামতগুলোকে নীতি নির্ধারণে ব্যবহার করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে অংশগ্রহণের নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সামগ্রিকভাবে, এই বৃহৎ পরিসরের নাগরিক চিঠি সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাদের স্বর তুলে ধরেছে এবং সরকারকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই প্রক্রিয়া নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।



