18 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতথ্য অধিকার ফোরাম অভিযোগ করেছে caretaker সরকারের তথ্য অধিকার অধ্যাদেশে ‘প্রহসন’

তথ্য অধিকার ফোরাম অভিযোগ করেছে caretaker সরকারের তথ্য অধিকার অধ্যাদেশে ‘প্রহসন’

তথ্য অধিকার ফোরাম মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবৃতিতে জানায়, caretaker সরকার তথ্য অধিকার আইন ২০০৯‑এর সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি করে আইনের মূল উদ্দেশ্যকে উপেক্ষা করেছে এবং তথ্য কমিশনার ও কমিশনারদের নিয়োগে দীর্ঘ বিলম্বের মাধ্যমে ‘প্রহসনের’ কাজ করেছে।

ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনামের মতে, তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের জন্য গৃহীত অধ্যাদেশটি মূল চেতনার প্রতিফলন ঘটায়নি। সংশোধনের জন্য ফোরাম কয়েকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করলেও সেগুলো সরকার গ্রহণ করেনি।

সংশোধনী অধ্যাদেশটি গত সোমবার জারি করা হয়, তবে এতে তথ্য অধিকার আইনের মূল কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফোরাম উল্লেখ করে, ধারাবাহিক তাগিদ সত্ত্বেও caretaker সরকারের অধীনে আইনের বাস্তবায়নে অনিচ্ছাকৃত ও নিন্দনীয় বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

অধিকন্তু, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর ২৫ জানুয়ারি ফোরাম উপদেষ্টাকে জরুরি সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানায়, তবে তা অধ্যাদেশে রাখা হয়নি।

ফোরাম দাবি করে, তথ্য অধিকার আইনের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ন্যূনতম কিছু পরিবর্তন অপরিহার্য, যা বর্তমান অধ্যাদেশে বাদ পড়েছে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে তথ্যের নোট সিট অন্তর্ভুক্ত করা, সরকারি চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে তথ্যের আওতায় আনা, এবং প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনারদের পদমর্যাদা, বেতন ও সুবিধা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জরিমানার ক্ষেত্রে আপিল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টিও সংশোধনীতে প্রতিফলিত হয়নি। এই ধারাগুলো ফোরাম অনুসারে আইনের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

ফোরামের দাবিগুলোর পক্ষে কথা রাখেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সংগঠনের কোঅর্ডিনেটর খুশী কবির, এবং সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তারা একত্রে জানান, তথ্য অধিকার আইনের মূল লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধনী গ্রহণ করতে হবে।

ফোরাম আরও উল্লেখ করে, প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনারদের পদমর্যাদা ও সুবিধা না বাড়ানোর ফলে তথ্যের স্বতন্ত্রতা ও স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই বিষয়টি তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা জোর দেন।

তথ্য অধিকার আইন ২০০৯‑এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি তথ্যের উন্মুক্ততা ও নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা। ফোরাম দাবি করে, বর্তমান অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই উদ্দেশ্যকে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

ফোরাম উল্লেখ করে, তথ্য অধিকার আইনের অধীনে নোট সিটের অন্তর্ভুক্তি না থাকলে তথ্যের পূর্ণতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা কঠিন। নোট সিটের অন্তর্ভুক্তি তথ্যের প্রমাণমূল্য বৃদ্ধি করবে এবং তথ্যের ব্যবহারিকতা বাড়াবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের তথ্যের আওতায় আনা হলে, সরকারি চুক্তি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে ফোরাম যুক্তি দেয়। এধরনের পরিবর্তন তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহারে সহায়তা করবে।

প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনারদের বেতন ও সুবিধা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সমান করা হলে, তথ্য অধিকার সংস্থার স্বতন্ত্রতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে ফোরাম উল্লেখ করে।

জরিমানা সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়ায় আপিল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা হলে, তথ্যের অনধিকৃত ব্যবহার রোধে কার্যকর তদারকি সম্ভব হবে। ফোরাম এই ধারাটিকে আইনের কার্যকর প্রয়োগের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছে।

ফোরামের মতে, caretaker সরকারের অধীনে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনারদের নিয়োগে দীর্ঘ বিলম্বের ফলে তথ্যের স্বচ্ছতা ও নাগরিকের অধিকার রক্ষায় বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিলম্বের পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক অদক্ষতা রয়েছে বলে ফোরাম বিশ্লেষণ করে। তারা দাবি করে, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে তথ্য অধিকার আইনের কার্যকারিতা হ্রাস পাবে।

ফোরাম উল্লেখ করে, তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের জন্য গৃহীত অধ্যাদেশে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন সত্ত্বেও জরুরি সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা আইনের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছে।

ফোরামের সমর্থকরা ভবিষ্যতে তথ্য অধিকার আইনের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সংশোধনী পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ধারা যুক্ত করার আহ্বান জানায়। তারা আশা করে, সংশোধনী গ্রহণের মাধ্যমে তথ্যের স্বচ্ছতা ও নাগরিকের অধিকার রক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

তথ্য অধিকার ফোরাম শেষ করে বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতা ও নাগরিকের অধিকার রক্ষার জন্য আইনকে মূল চেতনায় ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন করা জরুরি। এধরনের পদক্ষেপ না নিলে তথ্য অধিকার আইনের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments