18 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচনী প্রচার শেষ, ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু

নির্বাচনী প্রচার শেষ, ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায় সরকার অনুমোদিত শেষ প্রচার শেষ হয়, যা ২২ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল। ভোটগ্রহণের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট কেন্দ্র খুলবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভোটারদের গৃহভিত্তিক ভ্রমণ শেষের দিকে উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়।

প্রচারের শেষ পর্যায়ে রাস্তায় মিছিল, সমাবেশের সঙ্গে তীব্র কথাবার্তা ও বিতর্কের পরিবর্তে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের চিত্র দেখা যায়। প্রার্থীরা গ্রাম‑গ্রাম, শহর‑শহরে ঘুরে ভোটারদের দরজায় পৌঁছেছেন, যা নির্বাচন কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলীর মতে ইতিবাচক পরিবর্তন।

টুলী, যিনি তিন দশকের বেশি সময় নির্বাচন কমিশনে কাজ করেছেন, উল্লেখ করেন, “শেষ দিকে প্রচার বেশ জমজমাট হয়েছে। প্রার্থীরা অন্তত ভোটারের কাছে গেছেন, এটা ভালো দিক।” তিনি আরও বলেন, “আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন দেখছে, এখানে ইসি বেশ নমনীয় ছিল, তবে সামগ্রিকভাবে প্রার্থীরা ভোটারের কাছে পৌঁছেছেন – এটা আমার ভালো লেগেছে।”

প্রচারের প্রথম দিকে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মাধ্যমে পুরনো রাজনৈতিক চেহারা ফিরে এসেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উভয় দলই ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের দিকে ঝুঁকেছে, ফলে সমাবেশে উত্তেজনা কমে যায়।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, ঘাট, শহর‑বন্দরে প্রার্থীরা ঘন ঘন উপস্থিত ছিলেন। ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে তাদের মতামত জানাতে এবং ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরতে তারা প্রচার চালিয়েছেন।

কিছু এলাকায় সমর্থকদের মধ্যে মারামারি, হামলা এবং ছোটখাটো সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, তবে বড় ধরনের সহিংসতা ঘটেনি। নির্বাচন কমিশনে নালিশ, সমাবেশে বাকযুদ্ধের পরেও সামগ্রিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে পুলিশ ৩১৭টি নির্বাচনি সহিংসতার তথ্য জানিয়েছে, যার মধ্যে পাঁচজন নিহত এবং ৬১৩ জন আহত। টিআইবির তথ্য অনুযায়ী সহিংসতায় মোট ১৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

এই মৃত্যুর মধ্যে ঢাকা‑৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা শরীফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে মৃত্যুবরণ করা অন্যতম। শেরপুরে বিএনপি‑জামায়াতের সংঘর্ষে এক জামায়াত নেতার মৃত্যু ঘটেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছে, “দ্বিধা ভুলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন” এবং ভোটের দিনকে উৎসবের মতো পালন করার পরামর্শ দিয়েছে।

বৃহত্তর সহিংসতা না ঘটলেও, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর তদারকি বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে পর্যবেক্ষক দলগুলোও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

প্রচারের সময়কালে উভয় দলই ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন প্রচারমূলক উপকরণ ব্যবহার করেছে; পোস্টার, ব্যানার, রেডিও ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনসহ সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে।

ভোটগ্রহণের দিন নাগাদ, ভোটারদের গৃহভিত্তিক ভ্রমণ ও ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি শেষের দিকে আরও তীব্র হয়ে উঠবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটার তালিকা যাচাই, ভোটার পরিচয়পত্রের বৈধতা পরীক্ষা এবং ভোটের ফলাফল দ্রুত প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এই নির্বাচনকে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলাফল কীভাবে গঠিত হবে, তা দেশের ভবিষ্যৎ নীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments