গায়ক বি প্রাক রণবীর আল্লাহবদিয়া (বিয়ারবাইসেপস) পরিচালিত পডকাস্টে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। বাতিলের কারণ হল সাময় রেইনা’র ইউটিউব শো ‘ইন্ডিয়াস গট লেটেন্ট’‑এ আল্লাহবদিয়া যে প্রশ্নটি তুলেছিলেন, তা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
সাময় রেইনা’র শোতে আল্লাহবদিয়া একটি প্রতিযোগীকে এমন প্রশ্ন করেন: “আপনি কি আপনার বাবা-মা প্রতিদিন যৌনমিলন করতে দেখবেন, নাকি একবারে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন?” এই মন্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনুপযুক্ত বলে গণ্য হয়। পরবর্তীতে আল্লাহবদিয়া জনসমক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তার মন্তব্যের অযৌক্তিকতা স্বীকার করেন।
বিপ্রাক এই ঘটনার পর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এমন ধরনের কথাবার্তা এবং ভাবধারা ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা কমেডি হিসেবে গণ্য করা যায় না। তিনি বলেন, “এটি কোনো স্ট্যান্ড‑আপ কমেডি নয়, বরং অশ্লীল শব্দের শিক্ষা দিচ্ছে।” এছাড়া তিনি শোতে উপস্থিত সিক্সের (সিক্সের) ধর্মীয় পরিচয়কে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের বিষয়বস্তু তার দর্শকদের জন্য উপযুক্ত কিনা।
বিপ্রাক আল্লাহবদিয়ার ওপর আরও তীব্র সমালোচনা করেন, জানিয়ে দেন যে তিনি নিজের চ্যানেলে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, তবু এমন অশালীন মন্তব্যের অনুমতি দিচ্ছেন। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়বস্তু না দেখার জন্য অনুরোধ করেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে এই ধরনের বিষয় তরুণ প্রজন্মের মানসিকতা নষ্ট করতে পারে।
বিপ্রাকের ভিডিওতে তিনি সাময় রেইনা এবং শোতে অংশ নেওয়া অন্যান্য কমেডিয়ানদেরও আহ্বান জানান, যাতে তারা এমন প্রশ্ন ও মন্তব্য থেকে বিরত থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং সমাজকে সঠিক দিশা দেখানো সকলের দায়িত্ব।
আল্লাহবদিয়া এই সমালোচনার পর তার ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি স্বীকার করেন যে তার মন্তব্য অপ্রাসঙ্গিক ছিল এবং তিনি ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন। তবে বিপ্রাকের প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি এই ক্ষমা গ্রহণের যথেষ্ট গুরুত্ব দেন না এবং আবারও সংস্কৃতির ক্ষতি রোধের আহ্বান জানান।
এই ঘটনার পর, বিপ্রাকের পডকাস্টে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে যায়। তার সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হল আল্লাহবদিয়ার মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট সামাজিক বিতর্ক এবং তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্য।
বিপ্রাকের এই পদক্ষেপের ফলে তার ভক্ত ও শিল্প সমালোচকরা সামাজিক মিডিয়ায় আলোচনা শুরু করে, কেউ কেউ তার অবস্থানকে সমর্থন করেন, আবার কেউ কেউ মন্তব্যের স্বাভাবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে সবই স্পষ্ট যে, শিল্পী হিসেবে তিনি তার সংস্কৃতির প্রতি দায়িত্ববোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং এমন কোনো প্ল্যাটফর্মে অংশ নিতে চান না যেখানে তার মূল্যবোধের বিরোধী বিষয়বস্তু প্রচারিত হয়।
সাময় রেইনা’র শোতে ঘটিত এই বিতর্কের ফলে ইউটিউব কমেডি শোতে বিষয়বস্তুর সীমা নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক কমেডিয়ান এখন তাদের স্ক্রিপ্টে সতর্কতা অবলম্বন করছেন, যাতে অপ্রয়োজনীয় আপত্তিকর মন্তব্য না হয়।
বিপ্রাকের এই সিদ্ধান্ত এবং আল্লাহবদিয়ার ক্ষমা প্রার্থনা দুটোই ভারতীয় বিনোদন জগতে সংস্কৃতি, নৈতিকতা এবং শিল্পের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা শিল্পী, নির্মাতা এবং দর্শকদের যৌথ দায়িত্বের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।



