মধুবালার বয়সী ৯২তম জন্মদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি আসন্ন, এবং তার ছোট বোন মধুর ব্রিজ ভুষণ এই উপলক্ষ্যে পরিবারের জন্য বিশেষ গুরুত্বের কথা জানিয়েছেন। বোনের মতে, এই দিনটি মধুবালার চিরন্তন সৌন্দর্য ও আকর্ষণ উদযাপনের জন্য অপরিহার্য।
মধুবালা ১৯৫০‑৬০ দশকে তার অসাধারণ অভিনয়শৈলী ও মনোমুগ্ধকর রূপে চলচ্চিত্র জগতের শীর্ষে ছিলেন, ফলে তার জীবনের গল্প সব সময়ই চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ কারণেই সনি পিকচার্স গত বছর শুরুতে মধুবালার জীবনীমূলক চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা ঘোষণা করে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
বিবৃতি অনুযায়ী, সনি পিকচার্সের সঙ্গে চুক্তি মধুর ও তার দল মে ২০২৩-এ স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে উভয় পক্ষই মধুবালার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে প্রকল্পের কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি বা শুটিং সূচনার খবর পাওয়া যায়নি।
মধুরের মতে, এখন ২০২৫, এবং চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় দুই বছর পরেও চলচ্চিত্রের সূচনা বা মুহূর্ত সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি এখনও অগ্রগতির কোনো সংকেতের অপেক্ষায় আছি, যদিও সময়ের পরিধি ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে।” এই দীর্ঘ অপেক্ষা তাকে এবং তার পরিবারকে হতাশার মধ্যে ফেলেছে।
বোনের দল বহুবার সনি পিকচার্সকে ইমেইল পাঠিয়ে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা জানার চেষ্টা করেছে, তবে উত্তরগুলো সবসময় অস্পষ্ট ও অপ্রতুল ছিল। মধুর জানান, “আমরা বহুবার লিখেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাইনি।” তিনি আরও যোগ করেন, “এমন দীর্ঘ সময়ের অস্থিরতা আমাদের জন্য সহ্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
অবশেষে, মধুর তার আইনজীবী দলের মাধ্যমে সনি পিকচার্সকে আইনি নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ায় স্টুডিওকে দায়বদ্ধ করা হবে। তিনি বলেন, “বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অনিশ্চয়তা আমাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে, তাই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না।”
মধুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের অবস্থানকে “বৃদ্ধ নাগরিক” হিসেবে উল্লেখ করে, এই দীর্ঘ অপেক্ষা তাকে অস্বস্তিকর করে তুলেছে বলে জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আইনি নোটিশের পর সনি পিকচার্স দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং প্রকল্পের স্পষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করবে।
মধুবালার ভক্তদের জন্য এই বায়োপিকের প্রত্যাশা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তার শিল্পজীবনের অনন্য দিকগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। বোনের মতে, “যদি প্রকল্পটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তবে মধুবালার স্মৃতি ও শিল্পকর্মের প্রতি সম্মান আরও দৃঢ় হবে।”
সনি পিকচার্সের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে আইনি নোটিশের প্রভাব কী হবে তা সময়ই বলবে। এই মুহূর্তে মধুর ও তার পরিবার প্রকল্পের অগ্রগতির জন্য সর্বোচ্চ অপেক্ষা করছেন, এবং ভক্তদেরও একইভাবে উত্তেজনা ও আশাবাদে অপেক্ষা করা অব্যাহত রয়েছে।



