আখাউড়া উপজেলায় জামায়াত-এ-ইসলামি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার ও তার কয়েকজন কর্মীকে ধরখার ইউনিয়নের তোলাতলা গ্রামে বাধা দিয়ে রাখা হয়। ঘটনাটি মঙ্গলবার সন্ধ্যাবেলা ঘটেছে এবং আধা ঘণ্টা পরই স্থানীয় পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপে প্রার্থীর দলকে মুক্ত করা হয়।
প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার জানান, তিনি সন্ধ্যা ছয়টায় গ্রামে একটি অসুস্থ বৃদ্ধকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং সঙ্গে দশটি স্থানীয় কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি যোগ করেন, “স্থানীয়দের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় শেষ করার পর বশির আহমেদ নামে এক যুবদল নেতার নেতৃত্বে বিএনপি কর্মীরা আমাদের দলকে লাঞ্ছিত করে”।
বর্ণনা অনুযায়ী, লাঞ্ছনের পরেও প্রার্থী ও তার সঙ্গীরা গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করেন, তবে গাড়ি থেকে নামার সময়ও অতিরিক্ত হামলা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ উপস্থিত হওয়ার পরই তারা গ্রাম থেকে বের হতে সক্ষম হন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা বিএনপির সাবেক নেতা মো. নাছির উদ্দিন হাজারী বলেন, “প্রার্থী বিধি না মেনে প্রচার কাজ চালাচ্ছিলেন, ফলে স্থানীয় লোকজন তাকে ও সঙ্গে থাকা লোকজনকে আটক করেছে”। তিনি আরও যোগ করেন, “প্রচার শেষ হয়ে গেলেও কেন তারা এখানে এসেছেন, তা জানার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়”।
আখাউড়া থানার ওসি জাবেউল ইসলাম জানান, অবরুদ্ধের খবর পেয়ে তিনি ও ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। “আমরা পৌঁছানোর আগেই প্রার্থী ও তার দলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল” তিনি উল্লেখ করেন।
ওসি জাবেউল ইসলাম অবরুদ্ধের ঘটনা নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, “এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা প্রয়োজন”।
এই ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জামায়াত-এ-ইসলামি দলের স্থানীয় কর্মীরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি।
বিএনপি কর্মীদের অংশগ্রহণের অভিযোগের ফলে দুই দলের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগের আদান-প্রদান বাড়তে পারে। উভয় পক্ষই নিজেদের কার্যক্রমের বৈধতা রক্ষা করতে চায় এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে।
আখাউড়া জেলার নির্বাচন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘটনাটি জানার পর দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। তারা উল্লেখ করেন, “নির্বাচনী সময়ে কোনো ধরনের হিংসা বা বাধা না থাকে তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব”।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে গ্রাম স্তরে নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তদুপরি, নির্বাচনী সময়ে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আইনগত বিধান মেনে চলা জরুরি বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে নির্বাচনী সময়সূচি বা ভোটের ফলাফলে কোনো সরাসরি প্রভাব পড়বে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে এমন ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করতে পারে।
প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার ও তার দল ভবিষ্যতে নিরাপদে প্রচার চালাতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছেন। একই সঙ্গে, তারা আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন, যাতে এই ধরনের অবরুদ্ধের ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
সামগ্রিকভাবে, আখাউড়া উপজেলায় জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীর অবরুদ্ধের ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে সকল দলকে আইন মেনে চলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।



