টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে চেন্নাইতে অনুষ্ঠিত টানা দুই দিনের টুর্নামেন্টে নিউজিল্যান্ড ১০ উইকেটের ব্যবধানে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পরাজিত করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৭৩ রানে শেষ করে, আর কিউইরা মাত্র ১৫.২ ওভারে লক্ষ্য অতিক্রম করে জয়লাভ করে। এই জয় নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম ১০ উইকেটের জয় হিসেবে রেকর্ড হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাটিংয়ে প্রথমে মোহাম্মদ ওয়াসিম এবং আলিশান শারাফুরের জুটি ১০৭ রানে গড়ে ৭৭ রান করে দ্বিতীয় উইকেটের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। ওয়াসিম ৪৪ চৌকো এবং ৩টি ছক্কা মারিয়ে ৪৫ রান করেন, শারাফুর ৫ চৌকো ও ২টি ছক্কা দিয়ে ৪৭ রান যোগ করেন। তবে তাদের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত জয়ের পথে পৌঁছাতে পারেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাকি ব্যাটাররা যথেষ্ট রান জমা দিতে পারেনি, ফলে দলটি ১৭৩ রানে সীমাবদ্ধ থাকে। টিম সাইফার্ট এবং ফিন অ্যালেনের অংশীদারিত্বই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। উভয়ই একসাথে ১৭৫ রানের রেকর্ড জোড়া গড়ে, যা পূর্বের ২০২২ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলসের ১৭০ রানের রেকর্ডকে অতিক্রম করে।
টিম সাইফার্ট ৪২ বলের মধ্যে ১২টি চৌকো এবং ৩টি ছক্কা মারিয়ে ৮৯ রান করেন, যার ফলে তিনি অপরাজিত থেকে শেষ করেন। ফিন অ্যালেন ৫টি চৌকো এবং ৫টি ছক্কা দিয়ে ৮৪ রান সংগ্রহ করেন। উভয়ের দ্রুত গতি এবং শটের বৈচিত্র্যই নিউজিল্যান্ডকে দ্রুত লক্ষ্য অতিক্রম করতে সহায়তা করে।
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপের অন্য খেলোয়াড়রাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যদিও সাইফার্ট এবং অ্যালেনের অংশীদারিত্বই প্রধান, তবে দলটির সমগ্র পারফরম্যান্সই জয়ের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তাদের দ্রুত রেট এবং সঠিক শট নির্বাচনই ম্যাচের গতি নির্ধারণ করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাটিংয়ে মোহাম্মদ ওয়াসিমের ৪৫ রান এবং আলিশান শারাফুরের ৪৭ রান উল্লেখযোগ্য, তবে তাদের অংশীদারিত্বের পরেও দলটি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়। উভয়েরই ৪টি চৌকো এবং ৩টি ছক্কা ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ১০ উইকেটের পার্থক্য তাদের জয় থেকে বঞ্চিত করে।
এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ১০ উইকেটের জয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রেকর্ড হয়। পূর্বে কোনো দলই এই ফরম্যাটে ১০ উইকেটের ব্যবধানে জয়লাভ করতে পারেনি। এই জয় নিউজিল্যান্ডের টুর্নামেন্টে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
সাইফার্ট এবং অ্যালেনের ১৭৫ রানের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং শক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই রেকর্ডটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন মাইলফলক স্থাপন করে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য দলকে চ্যালেঞ্জ করবে।
ম্যাচের পর, কোচ টিমের কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন, যদিও নির্দিষ্ট উক্তি উল্লেখ করা হয়নি। দলটি পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে, যেখানে একই গ্রুপের অন্য দলগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে।
নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচে তারা একই গ্রুপের অন্য একটি দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যা টুর্নামেন্টের অগ্রগতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দলটি এই জয়কে ভিত্তি করে শীর্ষে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্যও এই পরাজয় একটি শিক্ষা হবে, যেখানে ব্যাটিং পারফরম্যান্স উন্নত করে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়া সম্ভব। দলটি পরবর্তী ম্যাচে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুতি নেবে।
সারসংক্ষেপে, নিউজিল্যান্ডের দ্রুত ব্যাটিং, সাইফার্ট-অ্যালেনের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব এবং ১০ উইকেটের জয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা ক্রিকেট প্রেমিকদের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।



