ফ্রান্সের দক্ষিণ‑পূর্বে অবস্থিত গ্রেনোবলে ৭৯ বছর বয়সী জ্যাক লেভেগলকে ৮৯ কিশোরীর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রোসিকিউটর এঁতিয়েন ম্যান্টো শোকেসে জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনটি ১৯৬০‑এর দশক থেকে ২০২২ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সিরিজ অপরাধে জড়িত ছিলেন।
লেভেগলকে গ্রেফতার করা হয় ২০২৪ সালে, যখন তিনি ইসেরে বিভাগে তার ভাইয়ের বাড়ি পরিদর্শন করেন। একই সময়ে তিনি মরক্কোতে বসবাস করছিলেন। তার ভাইয়ের পুত্র, যিনি তার চাচার আচরণে সন্দেহ পোষণ করছিলেন, একদিন চাচার অনুপস্থিতিতে একটি ইউএসবি ড্রাইভ পরীক্ষা করেন। ঐ ড্রাইভে ১৫টি ফাইলের সমন্বয়ে গঠিত বিশদ নথি পাওয়া যায়, যেখানে কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ফটোগ্রাফ ও লিখিত বিবরণ রয়েছে।
প্রসিকিউটর ম্যান্টো উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন শিকারকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যদিও মোট শিকার সংখ্যা ৮৯ বলে অনুমান করা হচ্ছে। তিনি শিকারের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়ার জন্য উন্মুক্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি কেউ সামনে আসতে চান, এখনই সময়”।
অপরাধের সময়সীমা ১৯৬৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা প্রায় পাঁচ দশক জুড়ে ঘটেছে। লেভেগল তার জীবনের বেশিরভাগ সময় অবসর ক্যাম্পে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষক বা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন, যেখানে তিনি তরুণদের ভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তুলতে সাহায্য করতেন।
প্রোসিকিউটরের প্রকাশিত সময়রেখা অনুযায়ী, লেভেগল ১৯৬০‑এর দশক থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে উপস্থিত ছিলেন। ফ্রান্সের পাশাপাশি জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, মরক্কো, নাইজার, আলজেরিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, কলম্বিয়া এবং ফরাসি ওভারসিজ টেরিটরি নিউ ক্যালেডোনিয়ায়ও তার কার্যক্রমের সূত্র পাওয়া গেছে।
ম্যান্টো বলেন, লেভেগল যখন এই দেশগুলোতে গিয়ে টিউটরিং সেবা দিতেন, তখন তিনি স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং পরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। তার কাজের ধরণ ছিল দীর্ঘমেয়াদী, যেখানে তিনি ভাষা শিক্ষা, সংস্কৃতি পরিচিতি এবং ব্যক্তিগত যত্নের ছদ্মবেশে শিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন।
ইউএসবি ড্রাইভে পাওয়া ১৫টি ফাইলের মধ্যে ফটোগ্রাফিক প্রমাণের পাশাপাশি লিখিত নথি রয়েছে, যেখানে লেভেগল নিজে তার যৌন সম্পর্কের বিবরণ দেন। এই নথিগুলোকে প্রোসিকিউটর “অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশদ” বলে উল্লেখ করেছেন।
শিকারেরা জানান, লেভেগল তাদেরকে বিদেশি ভাষা শিখতে সাহায্য করতেন, তাদের সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতেন এবং কখনও কখনও তাদের ঘরে বা ক্যাম্পে সময় কাটাতেন। তবে এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি শিকারের সঙ্গে অনুপযুক্ত শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যা এখন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে লেভেগলকে গ্রেনোবলে অবস্থিত একটি কারাগারে আটক রাখা হয়েছে এবং তাকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পরবর্তী পর্যায়ে শিকারের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য শুনানি নির্ধারণ করবে।
এই মামলায় শিকারের গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই প্রকাশ্য মিডিয়ায় শিকারের নাম বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিকারের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



