২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নাফিস আহমেদ নাদভী, দেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা, স্পষ্ট করে বললেন যে চলমান টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ক্রিকেটার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যৌথ সিদ্ধান্তের ফল। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার এই সিদ্ধান্তে কোনো ভূমিকা রাখেনি।
এটি তার পূর্বের অবস্থানের উল্টো দিক, কারণ ২২ জানুয়ারি মধ্যস্থ সরকারী আইনপ্রণেতা তখনই জানিয়েছিলেন যে বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া সরকারের সিদ্ধান্ত। সেই সময়ে সরকারকে মূল দায়িত্বধারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ দলকে স্কটল্যান্ড দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের দল এখন টুর্নামেন্টের অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত, আর বাংলাদেশ তার স্থানে নেই। এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।
টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে বহু ম্যাচ সম্পন্ন হয়েছে, তবে বাংলাদেশ কোনো ম্যাচে উপস্থিত হয়নি। টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দলগুলো এই পরিবর্তনের পরেও তাদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।
নাফিস আহমেদ নাদভী বলেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমঝোতার পরই এই বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্রিকেটারদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে জানায়, খেলোয়াড়দের মতামত ও উদ্বেগের ভিত্তিতে বয়কটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বোর্ডের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই এবং এটি সম্পূর্ণভাবে ক্রীড়া সংক্রান্ত বিষয়।
বয়কটের ফলে টুর্নামেন্টের গ্রুপ গঠন ও ম্যাচের সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের দল এখন গ্রুপে নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে যুক্ত হয়েছে, যা অন্যান্য দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণের পরবর্তী ম্যাচগুলো ইতিমধ্যে নির্ধারিত, এবং তারা প্রথমে গ্রুপের অন্য দলগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি হবে। এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভক্তদের দৃষ্টিতে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে।
সারসংক্ষেপে, নাফিস আহমেদ নাদভীর সাম্প্রতিক মন্তব্য স্পষ্ট করে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের সম্মিলিত সিদ্ধান্তই টি২০ বিশ্বকাপ বয়কটের মূল কারণ। সরকারকে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করা এখন আর প্রযোজ্য নয়, এবং টুর্নামেন্টের বাকি অংশে নতুন দল স্কটল্যান্ডের উপস্থিতি দেখা যাবে।



