যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিচারিক সংস্থা সম্প্রতি রেফারেন্স ম্যানুয়াল অন সায়েন্টিফিক এভিডেন্স (Reference Manual on Scientific Evidence) থেকে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত অধ্যায়টি মুছে ফেলেছে। এই ম্যানুয়ালটি জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়ের মামলায় বিচারকদের নির্দেশিকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মুছে ফেলার সিদ্ধান্তটি রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক রাজ্য অ্যাটর্নিদের একটি চিঠির পর নেওয়া হয়।
রেফারেন্স ম্যানুয়াল প্রায় দুই হাজার পৃষ্ঠার বিশাল নথি, যেখানে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক শাখার জন্য প্রমাণের মূল্যায়ন পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে জলবায়ু বিজ্ঞান সংক্রান্ত একটি সম্পূর্ণ অধ্যায় ছিল, যা বিচারকদের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত মামলায় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কীভাবে গ্রহণ করবেন তা নির্দেশ করত।
এই জলবায়ু অধ্যায়টি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল দ্বারা রচিত, এবং এতে মানব ক্রিয়াকলাপের ফলে গ্লোবাল উষ্ণায়ন ঘটছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকরা আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে এই দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন, যা বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে।
রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক রাজ্য অ্যাটর্নিরা ম্যানুয়ালের এই অংশটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে তারা উল্লেখ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচারকদের জন্য একতরফা মতামত সমন্বিত নথি প্রকাশ করা স্বতন্ত্রতা ও নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন। তারা বিশেষ করে মানবিক কারণের ওপর ভিত্তি করে জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাখ্যা ও আইপিসিসি (IPCC) কে ‘প্রামাণিক বৈজ্ঞানিক সংস্থা’ বলে উল্লেখকে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করে।
অভিযোগের মূল বিষয় ছিল ম্যানুয়ালের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, যদিও একই নথিতে অন্যান্য বৈজ্ঞানিক বিষয়ের জন্যও নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপিত আছে। রিপাবলিকান পার্টির আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলেন যে, একমাত্র জলবায়ু অধ্যায়ে এমন স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থাকা অনুচিত। তারা ম্যানুয়ালের সম্পূর্ণ সংস্কার নয়, বরং পুরো অধ্যায়ের অপসারণ চায়।
চিঠির লেখকরা কোনো সংশোধনী স্বীকার করতে অস্বীকার করে, এবং ম্যানুয়ালের সম্পূর্ণ সংস্করণে থেকে এই অংশটি বাদ দেওয়ার দাবি করে। এই চাহিদা অনুসরণ করে, সংশ্লিষ্ট বিচারিক সংস্থা অবশেষে জলবায়ু অধ্যায়টি মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ম্যানুয়ালের বর্তমান সংস্করণে আর কোনো জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত নির্দেশনা নেই।
অধ্যায়ের অপসারণের ফলে বিচারকরা জলবায়ু বিষয়ক মামলায় পূর্বের মতো স্পষ্ট নির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হন। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে, এখন বিচারকরা প্রমাণের মূল্যায়নে ‘বৈধতা’ ও ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নির্ধারণে আরও স্বায়ত্তশাসন ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন, যা মামলার ফলাফলে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
দ্রষ্টব্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এলেনা ক্যাগান ম্যানুয়ালের ভূমিকা অংশে এখনও জলবায়ু অধ্যায়ের উল্লেখ রেখেছেন। যদিও মূল বিষয়বস্তু মুছে ফেলা হয়েছে, তবে প্রারম্ভিক অংশে এই বাদ দেওয়া বিষয়ের উল্লেখ রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে সংশোধনের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
মুছে ফেলা অধ্যায়ের পূর্ণ পাঠ্য রিয়ালক্লাইমেট (RealClimate) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে interested পাঠকরা মূল বিষয়বস্তু দেখতে পারেন। এই প্রকাশটি স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি, ম্যানুয়ালের পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মতে, সমীক্ষা ও সমালোচনামূলক পর্যালোচনা করা ৯৯.৯% এর বেশি পিয়ার-রিভিউড গবেষণা মানবিক কার্যকলাপকে গ্লোবাল উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হিসেবে স্বীকার করে। ম্যানুয়াল থেকে এই তথ্য বাদ দেওয়া বিজ্ঞানিক ঐকমত্যের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই সিদ্ধান্তটি রিপাবলিকান পার্টির পরিবেশ নীতি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে জলবায়ু সংক্রান্ত মামলায় বিচারকদের সিদ্ধান্তে আরও বিচিত্রতা দেখা দিতে পারে, এবং পরিবেশ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হতে পারে। এই পরিবর্তনটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু নীতি নিয়ে আলোচনার নতুন মোড় তৈরি করতে পারে।



