রায়ান টেন ডোয়েসচেট, ভারত এ’র সহকারী কোচ, টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে দলের ব্যাটিং পদ্ধতিতে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। টিমের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং মুম্বাইয়ে শেষ জয়কে ভিত্তি করে তিনি নতুন পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এই মন্তব্যগুলো টুর্নামেন্টের প্রথম সপ্তাহে ভারত এ’র আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শৈলীর ওপর প্রশ্ন তুলেছে।
টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ভারত এ ধারাবাহিকভাবে উচ্চ স্কোর তৈরি করে শীর্ষস্থান অর্জন করেছিল। নাগপুরে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৩৮ রান করে দলটি শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছিল। রায়পুরে চতুর ওভার বাকি রেখে ২০০ রনের বেশি চেজ সম্পন্ন করা এবং গুআহাটিতে মাত্র ১০ ওভারে ১৫৫ রান সংগ্রহ করা তাদের ব্যাটিং ক্ষমতার প্রমাণ ছিল। এই ধারাবাহিকতা টুর্নামেন্টের প্রথম পর্যায়ে ভারত এ’কে শীর্ষে রাখে।
তবে ওয়ানখেডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পরিস্থিতি বদলে যায়। পিচের অপ্রত্যাশিত গতি ও যুক্তরাষ্ট্রের বোলিং পরিকল্পনা ভারত এ’কে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। শুরুর অর্ধে দলটি ৭৭ রানে ছয় উইকেট হারায়, যা টিমের জন্য বড় চাপের সৃষ্টি করে। এই মুহূর্তে ব্যাটিং লাইনআপের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং পরিকল্পনা পরিবর্তনের দরকারীয়তা স্পষ্ট হয়।
মুম্বাইয়ে জয়লাভের পর সুর্যকুমার যাদব নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, “যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, ৭৭ রানে ছয় উইকেট, তা আমাকে বিশাল চাপের মধ্যে ফেলেছিল। আমরা হয়তো একটু বেশি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খেলতে পারতাম, ছোট ছোট পার্টনারশিপ গড়ে ১৬০ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতাম।” তার কথায় দলীয় পার্টনারশিপের গুরুত্ব এবং একক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
টিমের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডোয়েসচেটও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আধুনিক ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের পদ্ধতি পরিবর্তিত হচ্ছে, এবং আমাদেরকে সেই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।” কোচের এই মন্তব্যে দলীয় কৌশলগত পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়। তিনি বৃহস্পতিবারের দ্বিতীয় ম্যাচের প্রস্তুতির সময়ে এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করার কথা জানান।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভারত এ’র ব্যাটিং সফলতা মূলত শীর্ষ ক্রমের খেলোয়াড়দের প্রথম বল থেকে আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে দেওয়ার ওপর নির্ভরশীল। তবে দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়াম এবং কলম্বোর পিচগুলো বোলারদের জন্য সহায়ক হয়ে উঠছে, যা টিমকে নতুন ব্যাটিং পদ্ধতি গ্রহণে বাধ্য করছে। পিচের ধরণ অনুযায়ী শট নির্বাচন, রোটেশন এবং ছোট পার্টনারশিপ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে বলে ধারণা।
আগামী বৃহস্পতিবার ভারত এ’র দ্বিতীয় ফিক্সচার নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে নতুন কৌশল প্রয়োগের সুযোগ থাকবে। কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা এই ম্যাচকে পরিকল্পনা পরীক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখছে। টিমের পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা নির্ভর করবে পরিবর্তিত ব্যাটিং পদ্ধতি কতটা কার্যকরীভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।



