জাতীয় নির্বাচনের দিন নির্ধারিত হওয়ায় ভোটার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে বিএইডিডি বিশদ পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। এতে ভোটদানের সময়সীমা, পার্টি গঠন, নারী প্রার্থীর উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিএইডিডি অনুযায়ী, মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৩৩ থেকে ৪২ শতাংশ, সময়ের অভাবে ভোট দিতে না পারার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই অংশটি মূলত দীর্ঘ কিউ এবং ভোটদান প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে প্রভাবিত হতে পারে।
তবে, নতুন শিক্ষিত তরুণ ভোটাররা যদি গড়ে ৭৬ সেকেন্ডের মধ্যে ভোট সম্পন্ন করতে পারে, তবে মোট ভোটদানের হার ২.৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এই সম্ভাব্য উন্নতি ভোটার সচেতনতা ও দ্রুত ভোটদান পদ্ধতির প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সংখ্যা মোট ৬০টি, যার মধ্যে ৭ থেকে ১০টি দল নির্বাচনে আসন অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই দলগুলোর মধ্যে প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও ছোট পার্টি উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও জয়লাভের সম্ভাবনা পাবে। বিশেষ করে, দুই থেকে তিনজন নারী প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেবে, যদিও তাদের জয়ের সম্ভাবনা মাঝারি হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে সংসদীয় ভোট এবং গণভোটের সমন্বয় ঘটবে, ফলে ভোটার, পোলিং এজেন্ট এবং পোলিং অফিসারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি পরিচালনা না করলে ভোটদান প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
বিএইডিডি উল্লেখ করেছে, গণভোটে অধিকাংশের ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা সংসদীয় নির্বাচনে কারচুপি করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। গণভোটের ফলাফলকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হলে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একটি সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে, কোনো দল তার সমর্থকদের প্রথমে ভোটকেন্দ্রে লাইন করে ধীরে ধীরে ভোট দিতে নির্দেশ দিতে পারে। এতে সময়ের অপচয় হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এই ধরনের কৌশল ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলের ন্যায্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। ফলে, ভোটদান প্রক্রিয়ার সময়সূচি ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উত্থাপিত হয়েছে।
অধিকন্তু, জোট গঠনকারী দলগুলো তাদের মূল আসন সুরক্ষার জন্য পারস্পরিক বিরোধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব আইনশৃঙ্খলা হ্রাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করে তুলতে পারে।
বিএইডিডি সতর্ক করেছে যে, নির্বাচনের পূর্বে এবং চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে ভোটার নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, ভোটদানের সময়সীমা, পার্টি ফলাফল, নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সহ বিভিন্ন দিকের বিশ্লেষণ নির্বাচনের পূর্বাভাসকে সমৃদ্ধ করেছে। এই তথ্যগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতি ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



