১০ ফেব্রুয়ারি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের সামনে ভোটারকে নগদ প্রদান সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, টেলিভিশনের টকশোতে নেতারা যদিও মধুর কথা বলেন, বাস্তবে ভোটারকে টাকা দিয়ে ভোটের প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।
বৈঠকে উপস্থিত সিইসি এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। তবে খান জানান, তিনি সিইসির কাছ থেকে এই ধরনের অভিযোগে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা স্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “অনেকেই টকশোতে ভালো কথা বলছেন, কিন্তু বাস্তবে ভোটারদের টাকা দিচ্ছেন।” তিনি এই বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে উল্লেখ করেন, “ইসি জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এছাড়া তিনি নারীদের জন্য বিশেষ কাপড় তৈরির প্রচেষ্টা এবং ব্যালট পেপার উৎপাদনের সময় কিছু লোকের ধরা পড়ার ঘটনা উল্লেখ করেন। “লাখ লাখ নারীদের বিশেষ কাপড় তৈরি হচ্ছে, ব্যালট পেপার তৈরি করতে গিয়ে অনেকেই ধরাও পড়ছে,” তিনি বলেন এবং জোর দিয়ে বলেন, “এই অনাচার কীভাবে রোধ করা হবে, তা সম্পর্কে ইসির করণীয় জানতে চাওয়া হয়েছে।”
কিন্তু তিনি ইসির পদক্ষেপে সন্তোষজনক কোনো ফলাফল না দেখার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ইসিকে বারবার বলা হলেও এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।” ফলে তিনি ইসির ন্যায়বিচারিক দায়িত্বের প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত অন্য একটি মন্তব্যে তিনি বলেন, “এবার যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তারা সবাই গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একসঙ্গে আন্দোলন করেছে।” এই বক্তব্য থেকে দেখা যায়, তিনি বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করছেন।
ব্যালট পেপার বিতরণ সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি জানান, “নির্বাচনের দিন সকালে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পৌঁছালে আমরা খুশি হতাম। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের দিন ব্যালট পাঠানো হচ্ছে।” তিনি এ বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরপেক্ষ ভূমিকার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, “এতে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
নজরুল ইসলাম খান শেষ করে উল্লেখ করেন, ভোটারকে নগদ প্রদান সংক্রান্ত অভিযোগের ওপর আইনগত প্রক্রিয়া চালু হয়েছে এবং সিইসির ত্বরিত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা দ্রুত কাজ করবে।
এই বিবৃতি নির্বাচন পর্যায়ে ভোটারকে নগদ প্রদান, অনিয়মিত ব্যালট পেপার সরবরাহ এবং নারীদের জন্য বিশেষ সামগ্রী তৈরির মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সিইসির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আইনগত প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দেশের নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



