ড. আসিফ নজরুল, আইন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা, ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর সাংবাদিকদের সামনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তাদের ভূমিকার জন্য কোনো নেতাই অনুশোচনামূলক বা নিন্দাসূচক বক্তব্য দেননি।
মিটিংয়ে পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচনের ফলাফল সব দল মেনে নেবে কিনা, সংঘাতের ঝুঁকি, নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ, গণভোটের পরিকল্পনা এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে কিনা ইত্যাদি প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এসব প্রশ্নের জবাবে ড. আসিফ নজরুল দলটির অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো উদ্যোগের দূরত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দলটি গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য তার সিনিয়র ও সিরিয়াস নেতাদের বিচার চলছে এবং তাদের প্রধান নেত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ জারি হয়েছে। এ ধরনের আইনি প্রক্রিয়া দলটির নির্বাচনী অংশগ্রহণকে কঠিন করে তুলছে।
ড. আসিফ নজরুল আরও উল্লেখ করেন, কিছু নেতা বিদেশে বসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ও সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার উসকানিও দিচ্ছেন। তিনি এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্যকে দেশের মানুষের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে বলে সমালোচনা করেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দল ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে কোনো আওয়ামী লীগ নেতার অনুশোচনামূলক মন্তব্য দেখা যায়নি। রিকনসিলিয়েশন বা অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে অপর পক্ষের মনোভাবও বিবেচনা করা প্রয়োজন, এ কথায় তিনি জোর দেন।
উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মতে, দলটির সংস্কার, নতুন রাষ্ট্র গঠন বা প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো মানসিকতা বা প্রস্তুতি নেই। বরং তারা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাসিস্ট শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়, এটাই তার মূল ধারণা।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি জানান, বহু বছর পর বাংলাদেশে সত্যিকারের অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন শেষে একটি কার্যকর বিরোধী দল সংসদে থাকবে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিশীলতা আনবে।
ড. আসিফ নজরুলের মন্তব্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগকে অন্তর্ভুক্তি ও সমন্বয় প্রক্রিয়ায় বড় বাধা রয়েছে। তার বক্তব্যের ফলে পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল ও নির্বাচনী প্রস্তুতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে।
এই আলোচনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি দলটি রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ায় অংশ না নেয়, তবে নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ সীমিত হতে পারে এবং বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা শক্তিশালী হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে।



