ইংল্যান্ডের শীর্ষ ক্রিকেটার জোস বাটলার মঙ্গলবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি প্রশিক্ষণে কোচ ব্রেনডন মাকুলামের কাজের প্রশংসা করেন। মাকুলাম, যিনি সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দলকে নেপালের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছেন, বাটলারের মতে সর্বোচ্চ মানের কোচিং দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন।
বাটলার প্রশিক্ষণ সেশনের পরে জানালেন, মাকুলাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা ওয়াকি-টকি মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “ওয়াকি-টকি ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ কথা বলা দলকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে”। এই পদ্ধতি মাকুলামের হাতে-কলমে কোচিং শৈলীর অংশ, যা বাটলার প্রশংসা করেন।
বাটলার আরও বললেন, “মাকুলাম কখনোই কোনো মুহূর্ত মিস করেন না। তিনি সবসময় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সঠিক নির্দেশনা দেন”। তার মতে, মাকুলামের ক্যাপ্টেন হিসেবে সফল ক্যারিয়ার তাকে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে, যা তিনি এখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন।
মাকুলামের আরামদায়ক স্বভাবের কথাও বাটলার উল্লেখ করেন। “তিনি কখনোই চাপের মধ্যে না গিয়ে আরাম করে বসে থাকেন, তবে তার মনোযোগ কখনোই কমে না,” বাটলার মন্তব্য করেন। মাকুলাম সানগ্লাস পরা অবস্থায়ও দলের কৌশল নির্ধারণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে মাকুলামের সম্পর্কের কথাও বাটলার উল্লেখ করেন। “মাকুলাম এবং হ্যারি ব্রুকের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা দলের ঐক্যকে শক্তিশালী করে,” তিনি জানান। ব্রুক, যিনি অশেস ট্যুরের আগে রাতের ক্লাবে ঘটিত একটি ঘটনার পর ক্ষমা চেয়েছিলেন, এখন মাকুলামের নির্দেশনায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছেন।
মাকুলামকে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাকে দলের ক্যাম্পে অতিরিক্ত শিথিলতা এবং পানীয় সংস্কৃতি অনুমোদনের জন্য সমালোচনা করা হয়েছিল। তবে বাটলার এই সমালোচনাকে অস্বীকার করে বলেন, “মাকুলামের নেতৃত্বে দলটি সঠিক দিকনির্দেশে অগ্রসর হচ্ছে”।
ইংল্যান্ডের টি২০ বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচে মুম্বাইতে পশ্চিম ইন্ডিজের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। বাটলার উল্লেখ করেন, “মাকুলামের কৌশলগত নির্দেশনা আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সফল হতে সাহায্য করবে”। দলটি নেপালের বিরুদ্ধে শেষ বলের নাটকীয় জয় থেকে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে।
বাটলার স্বীকার করেন, ক্যাপ্টেন থেকে সাধারণ খেলোয়াড়ে ফিরে আসা সহজ ছিল না। “ক্যাপ্টেনশিপ ছেড়ে পরে আবার খেলোয়াড়ের ভূমিকায় ফিরে আসতে কিছুটা মানসিক পরিবর্তন দরকার,” তিনি বলেন। তবে তিনি মাকুলামের সহায়তায় এই পরিবর্তনকে সহজে সামলাতে পারছেন।
ইংল্যান্ডের টি২০ বিশ্বকাপের পূর্বে ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় জয়লাভের পর, দলটি ২০২৩ সালের ৫০-ওভার বিশ্বকাপে এবং ২০২৪ সালের ক্যারিবিয়ান টি২০ বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতা দেখেছে। বাটলার এই ব্যর্থতাগুলি দলকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছেন।
মাকুলামের কোচিং শৈলী এখন ইংল্যান্ডের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করছে। বাটলার উল্লেখ করেন, “মাকুলামের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান নতুন খেলোয়াড়দের জন্য অমূল্য সম্পদ”। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মাকুলামের নেতৃত্বে দলটি শীঘ্রই পুনরায় শীর্ষে ফিরে আসবে।
ইংল্যান্ডের টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালীন, মাকুলাম ও বাটলার উভয়েরই লক্ষ্য স্পষ্ট: দলকে ধারাবাহিকভাবে জয়ী করা এবং শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানো। বাটলার শেষ করে বলেন, “মাকুলামের সঙ্গে কাজ করা আমাদের জন্য একটি বড় সুবিধা, এবং আমরা এই সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করব”।



