বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম উল্লেখ করেন যে, জুলাই আন্দোলনের সময় লুট হওয়া মোট ২,৩৩০টি অস্ত্রের মধ্যে ১,৩৩০টি পুলিশের এবং ১,০০০টি ব্যক্তিগত মালিকের অস্ত্র এখনো পুনরুদ্ধার করা যায়নি। তিনি জানান, এই অস্ত্রগুলো দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করে চলেছে।
বাহারুল আলমের মতে, লুট হওয়া অস্ত্রের পুনরুদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তবে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র অবৈধভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অস্ত্রই হুমকি, তাই সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে।
সম্মেলনের সময় নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, ১৩ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফলই পরবর্তী সময়ে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্তভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে কিনা তা স্পষ্ট করবে। তিনি নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সকল পক্ষের ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বাহারুল আলম জানান, নির্বাচনের সময় প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় অবরোধ সৃষ্টি করে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে, তবে পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য বজায় রেখে পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। তিনি মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের পুলিশের ওপর আস্থা বজায় রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
পুলিশ সংস্কার সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৬-২০০৭ সাল থেকে পুলিশকে কাজের স্বাধীনতা প্রদান এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখার দাবি করা হচ্ছে, তবে এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান পুলিশ সংস্কার কমিশনে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয় এবং পদোন্নতি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় এখনও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে।
আইজিপি আরও জানান, শীর্ষ পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে; কমিশনকে তিনজন প্রার্থীর সুপারিশ করার এবং সরকারকে তাদের মধ্যে একজনকে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তাব ছিল, তবে এই ব্যবস্থা কোনো অধ্যাদেশে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সুপারিশ বাধ্যতামূলক করা না হওয়ায় এখনো কাঙ্ক্ষিত স্বায়ত্তশাসন অর্জন করা যায়নি।
বাহারুল আলমের বক্তব্যের ভিত্তিতে, পুলিশ এখনো লুট হওয়া অস্ত্রের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত কাজের পরিবেশ গঠন এবং নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যস্ত। তিনি শেষ পর্যন্ত সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শান্তিপূর্ণ ও আইনসঙ্গত পদ্ধতিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।



