গুজবের বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে আজ সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে একটি ভাষণ প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি উল্লেখ করেন যে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য চলমান গণভোটের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় গুজবের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, নির্বাচনী পর্যায়ে সামাজিক মিডিয়া এবং অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে নাগরিকদের মধ্যে সন্দেহ ও ভয় সঞ্চার করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব প্রচেষ্টা মূলত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিবেশকে নষ্ট করা এবং জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করা উদ্দেশ্য নিয়ে করা হচ্ছে।
ড. ইউনূস সকল ভোটারকে সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখতে আহ্বান জানান। তিনি জোর দেন যে, কোনো তথ্য যাচাই না করে শেয়ার করা গুজবের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করে এবং তা শাস্তির আওতায় আসতে পারে। গুজবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হল সচেতনতা এবং সত্যের অনুসন্ধান।
বছরের শেষের দিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া বিভিন্ন গোষ্ঠী পূর্বে সন্দেহ সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও, তাদের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। ড. ইউনূসের মতে, এই গোষ্ঠীগুলি জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সম্পূর্ণভাবে অক্ষম হয়েছে এবং তাদের পরিকল্পনা ফলহীন রয়ে গেছে।
ভোটারদের জন্য তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, অপপ্রচার থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং সরকারী সূত্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা জরুরি। তিনি নির্বাচনবন্ধু হটলাইন ৩৩৩ নম্বরে কল করে সঠিক তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দেন, যাতে কোনো ভুল ধারণা না গড়ে ওঠে।
এই সতর্কতা দেওয়া বক্তব্যটি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দেওয়া হয়েছে। সরকার এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার শান্তিপূর্ণ সম্পাদন নিশ্চিত করতে গুজব বিরোধী নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রতিপক্ষের কিছু গোষ্ঠী পূর্বে গুজবের সম্ভাবনা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, প্রধান উপদেষ্টা এই উদ্বেগকে যথাযথভাবে মোকাবিলা করার জন্য তথ্য যাচাই এবং হটলাইন ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গুজবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুধুমাত্র সরকারী পদক্ষেপেই নয়, নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণেও নির্ভরশীল।
ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার হটলাইন ৩৩৩-এ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। ড. ইউনূসের বার্তা স্পষ্ট যে, গুজব ছড়িয়ে দিলে রাষ্ট্রের সহ্যশক্তি শেষ, এবং নাগরিকদের দায়িত্ব হল সত্য যাচাই করে ভোটের সঠিক পরিবেশ গঠন করা।



