ভারতের সরকার নতুন আইটি বিধির সংশোধনী প্রকাশ করে সামাজিক মিডিয়া সেবাদাতাদের ডিপফেক ও অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা‑সৃষ্ট নকল কন্টেন্ট দ্রুত সরাতে বাধ্য করেছে। এই নির্দেশনা মঙ্গলবার PDF আকারে প্রকাশিত হয় এবং ২০২১ সালের আইটি নিয়মের অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
নতুন বিধি অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মগুলোকে সরকারী অপসারণ আদেশ পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট মুছে ফেলতে হবে। তাছাড়া জরুরি ব্যবহারকারী অভিযোগের ক্ষেত্রে দুই ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে, যা পূর্বের সময়সীমার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
ডিপফেক কন্টেন্টের লেবেলিং ও ট্রেসেবিলিটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যবহারকারী যখন অডিও‑ভিজ্যুয়াল ফাইল আপলোড করেন, তখন তা সিন্থেটিক কিনা তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং লেবেলে উৎপত্তি তথ্য যুক্ত থাকতে হবে।
প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর ঘোষণার সত্যতা যাচাই করার জন্য স্বয়ংক্রিয় টুল স্থাপন করতে হবে। এই টুলগুলো কন্টেন্টের বিশ্লেষণ করে নকল বা বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত করবে এবং প্রয়োজনীয় লেবেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ করবে।
বিধিতে নির্দিষ্ট কিছু সিন্থেটিক কন্টেন্টকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে ধোঁকাবাজি করে পরিচয় নকল করা, অঅনুমোদিত যৌন ছবি এবং গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কন্টেন্ট অন্তর্ভুক্ত। এসব কন্টেন্টের কোনো রূপে আপলোড বা শেয়ার করা আইনি দায়ের মুখে ফেলতে পারে।
নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় (সেইফ‑হ্যাভেন) সুরক্ষা হারাতে হতে পারে। সরকারী বা ব্যবহারকারী দ্বারা চিহ্নিত লঙ্ঘন দ্রুত সমাধান না করলে আইনি দায় বাড়বে এবং বিদ্যমান সুরক্ষা কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই বিধি প্রয়োগে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। প্ল্যাটফর্মগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সনাক্তকরণ ও লেবেলিং প্রযুক্তি দ্রুত চালু করতে হবে, যাতে সময়সীমা পূরণ করা যায়।
ভারত এক বিলিয়নেরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং তরুণ প্রজন্মের বড় বাজার। এই ডেমোগ্রাফিক বৈশিষ্ট্য দেশকে গ্লোবাল ডিজিটাল সেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য করে তুলেছে।
মেটা এবং ইউটিউবের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের জন্য এই পরিবর্তন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশের বিশাল ব্যবহারকারী ভিত্তি তাদের ব্যবসায়িক মডেলকে সরাসরি প্রভাবিত করে, ফলে নতুন নিয়ম মেনে চলা তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন বিধি অনুসরণে গৃহীত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং কঠোর সময়সীমা অন্যান্য দেশের নিয়ন্ত্রক নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতীয় বাজারের আকার ও গতিবেগ বিবেচনা করে গ্লোবাল টেক ফার্মগুলো সম্ভবত একই ধরনের নীতি গ্রহণের দিকে ঝুঁকবে।
সারসংক্ষেপে, ডিপফেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা‑সৃষ্ট নকল কন্টেন্টের নিয়ন্ত্রণে ভারতের পদক্ষেপ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে কন্টেন্ট মডারেশন প্রক্রিয়াকে পুনর্গঠন করতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরণের বিধি ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর বিশ্বাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



