স্মার্ট ব্রিক্স, একটি এআই‑চালিত প্রোপটেক স্টার্টআপ, মঙ্গলবার ৫ মিলিয়ন ডলার প্রি-সিড তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে। এই রাউন্ডের প্রধান বিনিয়োগকারী অ্যান্ড্রেসেন হোরোভিটজ, যা কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে ত্বরান্বিত করবে। স্মার্ট ব্রিক্সের সদর দফতর লন্ডন ও সান ফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত, ফলে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় দু’প্রান্তে সেবা প্রদান সম্ভব।
প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ মোহাম্মদ তার ক্যারিয়ারে ব্ল্যাকরক, গোল্ডম্যান স্যাক্স এবং ম্যাকিন্সে কাজ করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো রিয়েল এস্টেটকে একটি গণনামূলক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে, নিজস্ব ডেটা পাইপলাইন, মূল্যায়ন মডেল এবং এআই‑সহায়িত অধিগ্রহণ ও মূলধন বরাদ্দ টুল ব্যবহার করে। তিনি এই অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারেন যে, উচ্চমানের বিশ্লেষণাত্মক সরঞ্জামগুলো কেবল বড় আর্থিক সংস্থার জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল।
সাধারণ রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চুক্তি সমন্বয় করে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি পিডিএফ ফরম্যাটে সংরক্ষণ করে কাজ করতেন। ঐ পদ্ধতিতে কোনো একীভূত ডেটা স্তর, ধারাবাহিক মডেলিং বা ঝুঁকি, তরলতা ও সম্পাদনায় সমগ্র দৃষ্টিভঙ্গি ছিল না। ফলে, কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তগুলো আধুনিক বুদ্ধিমত্তা স্ট্যাকের অভাবে নেওয়া হচ্ছিল।
২০২৪ সালে তিনি বস্টন কনসালটিং গ্রুপ ছেড়ে নিজের উদ্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং স্মার্ট ব্রিক্স প্রতিষ্ঠা করেন। লক্ষ্য ছিল রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরের বিশ্লেষণকে সাধারণ বিনিয়োগকারীর নাগালে নিয়ে আসা। এ জন্য কোম্পানি এআই‑ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের উচ্চমানের সম্পত্তি চিহ্নিত করতে সহায়তা করে।
স্মার্ট ব্রিক্সের সিস্টেম মিলিয়ন সংখ্যক পাবলিক ও স্বত্বাধিকারী ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে। মূল্য নির্ধারণ, তরলতা, লেনদেনের ইতিহাস, সরবরাহের অবস্থা এবং আর্থিক শর্তাবলী ইত্যাদি ক্ষেত্রের তথ্য একত্রিত করে একটি সমন্বিত দৃশ্য প্রদান করা হয়। এই বিশাল ডেটা ভাণ্ডার থেকে প্ল্যাটফর্ম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজারের প্রবণতা ও সম্পত্তির সম্ভাব্য রিটার্ন নির্ণয় করে।
প্ল্যাটফর্মের স্বয়ংক্রিয় যুক্তি ব্যবস্থা শুধুমাত্র উপলব্ধ ডিল দেখায় না, বরং স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন মডেল, নগদ প্রবাহ পূর্বাভাস, নিম্নমুখী ঝুঁকি মডেলিং এবং বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রত্যাশিত ফলাফল ম্যাপ করে। ফলে বিনিয়োগকারীকে ডিলের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, যা পূর্বে বহু ধাপের বিশ্লেষণ ছাড়া সম্ভব ছিল না।
স্মার্ট ব্রিক্সের এআই টুলগুলো লেনদেনের পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করে। সাধারণত আইনজীবী, বিশ্লেষক এবং ব্রোকারদের সমন্বয়ে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগা কাজগুলো এখন এআই এজেন্টের মাধ্যমে ডকুমেন্ট প্রস্তুতি, ডিউ ডিলিজেন্স এবং চুক্তি সমাপ্তি পর্যন্ত সম্পন্ন করা যায়। এই স্বয়ংক্রিয়তা সময় ও খরচ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
ডিল সম্পন্ন হওয়ার পরও সিস্টেম নতুন ডেটা গ্রহণ করে পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যায়। রিফাইন্যান্সিং সিমুলেশন, বাজার পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুপারিশ এবং রিয়েল-টাইম ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবহারকারীকে সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে। ফলে বিনিয়োগের জীবনচক্র জুড়ে ধারাবাহিক সমর্থন প্রদান করা সম্ভব হয়।
এই তহবিল সংগ্রহে অ্যান্ড্রেসেন হোরোভিটজের নেতৃত্বে ৫ মিলিয়ন ডলার মূলধন যুক্ত হয়েছে। প্রি-সিড পর্যায়ের এই বিনিয়োগ স্মার্ট ব্রিক্সকে পণ্য উন্নয়ন, ডেটা পার্টনারশিপ এবং বাজার সম্প্রসারণে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রোপটেক সেক্টরে এআই-ভিত্তিক সমাধানের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের তহবিলের গুরুত্ব আরও বাড়ছে।
স্মার্ট ব্রিক্সের উদ্ভাবন রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের ডেমোক্রাটিকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক স্তরের বিশ্লেষণ সরঞ্জামগুলোকে সহজলভ্য করে, সাধারণ বিনিয়োগকারীও ঝুঁকি মূল্যায়ন ও রিটার্ন পূর্বাভাসে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাবে। ফলে বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং অতিরিক্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে।
দ্রুত লেনদেন সময়, উন্নত ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং তরলতা বৃদ্ধি এই প্রযুক্তির প্রধান সুবিধা। এআই‑এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ও ফ্লো পূর্বাভাসের ফলে বিনিয়োগের রিটার্ন অপ্টিমাইজ করা যাবে, একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা কমে যাবে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা রিয়েল এস্টেট পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে তুলবে।
লন্ডন ও সান ফ্রান্সিসকোর দ্বৈত সদর দফতর স্মার্ট ব্রিক্সকে ইউরোপীয় ও আমেরিকান বাজারে সমান্তরালভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়। উভয় অঞ্চলের রিয়েল এস্টেট ডেটা ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশে অভিজ্ঞতা অর্জন করে, কোম্পানি ভবিষ্যতে এআই‑চালিত রিয়েল এস্টেট সমাধানের গ্লোবাল মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, তহবিল সংগ্রহের পরবর্তী পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা উঁচুতে রয়েছে।



