সকাল প্রায় ৭টা ৩০ মিনিটে ঢাকা‑পাবনা মহাসড়কের শোলাবাড়িয়া সেতুর নিকটস্থ শোলাবাড়িয়া এলাকায় দুইটি বাসের মুখোমুখি ধাক্কা ঘটায়। ধাক্কাটি শাহাজদপুর ট্রাভেলসের ঢাকা‑মুখী বাস এবং মাসরাঙ্গা পারিবাহনের পাবনা‑মুখী বাসের মধ্যে সংঘটিত হয়। ঘটনায় কমপক্ষে চারজন প্রাণ হারায় এবং ত্রিশেরও বেশি যাত্রী আহত হয়।
ধাক্কার মুহূর্তে উভয় গাড়ির চালকই গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে একে অপরের পথে ঢুকে যায়। ফলে দুইটি বড় বাস একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ে, যা আশেপাশের গাড়ি ও পথচারীদের জন্য তীব্র আতঙ্কের কারণ হয়।
প্রাথমিকভাবে দুইজনের মৃত্যু ঘটে—একজন চালক এবং একজন সহকারী—যারা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। বাকি দুইজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে চিকিৎসার পর, যেখানে তারা গুরুতর আঘাতের শিকার ছিলেন। মৃতদের নাম প্রকাশিত হয়েছে: শাহাজদপুর ট্রাভেলসের ৪০ বছর বয়সী চালক মোঃ কামাল হোসেন, মাসরাঙ্গা পারিবাহনের ২৮ বছর বয়সী সহকারী মেহেদি হাসান, পাশাপাশি ৩৫ বছর বয়সী আলেফ উদ্দিন এবং ৩৬ বছর বয়সী আলমগীর হোসেন।
পাবনা সদর হাইওয়ে থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, উভয় চালকই গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় গাড়ি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেননি, ফলে ধাক্কা ঘটেছে। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ ও দমকল দল পৌঁছে আহতদের ত্রাণ কাজ শুরু করে।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডঃ রফিকুল ইসলাম জানান, মোট ৩২ জন আহত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে গুরুতর অবস্থায় রায়শাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে বিশেষ যত্ন প্রদান করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ধাক্কা ঘটার পরই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য সাময়িকভাবে সড়কটি বন্ধ করা হয়। এক ঘণ্টার মধ্যে রাস্তায় পুনরায় গতি ফিরে আসে এবং স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
দুর্ঘটনা স্থল থেকে উদ্ধারকাজে কাজ করা দমকল কর্মীরা ভাঙা বাসের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলতে সহায়তা করে, যাতে রাস্তায় অতিরিক্ত বাধা না থাকে। উদ্ধারকাজের সময় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় বাস স্টেশন ও ট্রান্সপোর্ট সংস্থা ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকা যাত্রীদের জন্য বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা চালু করে, যাতে যাত্রীদের চলাচল বাধাগ্রস্ত না হয়।
এই ধাক্কা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক নিরাপত্তা সংস্থা ভবিষ্যতে একই রকম দুর্ঘটনা রোধে গতি নিয়ন্ত্রণ ও ড্রাইভারের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে।
দুর্ঘটনার পরে স্থানীয় বাস চালকদের মধ্যে গতি সীমা ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে হাইওয়ে পথে গাড়ি চালানোর সময় সতর্কতা ও নিয়মিত গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পাবনা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগও আহতদের জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত মেডিকেল টিম পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এতে করে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। বর্তমানে মৃত ও আহতদের পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে শোক প্রকাশ করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় বাস কোম্পানিগুলোও নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই হালকা থেকে মাঝারি আঘাতের শিকার, তবে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ায় রাস্তায় যানবাহনের প্রবাহ পুনরুদ্ধার হয়েছে।



