র্যাচেল জোফনেসের নতুন প্রকাশনা ‘Tell Me Where It Hurts’ গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল পাবলিশিং থেকে ৩০ ডলারে প্রকাশিত হয়েছে। এই বইটি ব্যথা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং পাঠকদেরকে ব্যথার জটিলতা বুঝতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান ক্ষেত্রে আগ্রহী পাঠকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স।
বেশিরভাগ মানুষ ব্যথাকে সরাসরি শারীরিক ক্ষতির ফলাফল হিসেবে দেখে। তবে জোফনেসের মতে, ব্যথা শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু থেকে আসা সংকেতের ওপর নির্ভর করে না। তিনি যুক্তি দেন যে ব্যথা একটি বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা, যেখানে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক উপাদান একসঙ্গে কাজ করে।
বইতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে আবেগ, পূর্বের ট্রমা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং সামাজিক সম্পর্ক সবই ব্যথার তীব্রতা ও ধরণকে প্রভাবিত করে। এই উপাদানগুলো একত্রে একটি জটিল মিশ্রণ তৈরি করে, যা কখনও কখনও শারীরিক আঘাতের চেয়ে বেশি ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
জোফনেস এই জটিলতাকে সহজে বোঝাতে রন্ধনশৈলীর উপমা ব্যবহার করেছেন। তিনি ব্যথাকে একটি রেসিপি হিসেবে উপস্থাপন করেন, যেখানে প্রত্যেক উপাদান—যেমন প্রত্যাশা, ভয়, মনোভাব—একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে যোগ করা হয় এবং সমন্বয় ঘটায়। রেসিপি অনুসারে, সঠিক মিশ্রণ ব্যথা কমাতে পারে, আর ভুল মিশ্রণ তা বাড়িয়ে দিতে পারে।
একটি উদাহরণে তিনি দুইটি নখের গল্প তুলে ধরেছেন। প্রথমটি একটি তরুণ নির্মাণ কর্মীর সঙ্গে ঘটেছে, যিনি একটি প্ল্যাঙ্ক থেকে লাফিয়ে পড়ে এবং তার বুটের ভিতরে একটি ৭ ইঞ্চি নখ আটকে যায়। নখের তীক্ষ্ণ প্রান্ত বুটের বাইরে বেরিয়ে এসে তাকে তীব্র কষ্টে ফেলেছিল।
কর্মীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গিয়ে শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয়। পরে বুট খুলে দেখা যায়, নখটি তার পায়ের কোনো অংশে আঘাত না করেও আটকে ছিল। যদিও শারীরিক ক্ষতি ছিল না, তবু তার ব্যথা বাস্তব এবং তীব্র ছিল, যা প্রত্যাশা ও মানসিক অবস্থা কীভাবে ব্যথাকে গঠন করে তা স্পষ্ট করে।
এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে ব্যথা কেবল শারীরিক আঘাতের ফল নয়; মস্তিষ্কের ব্যাখ্যা এবং রোগীর বিশ্বাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রত্যাশা যদি উচ্চ হয়, তবে ব্যথা তত বেশি অনুভূত হয়।
দ্বিতীয় উদাহরণে একটি নখ গানের দুর্ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। অন্য একজন কর্মী নখ গানের গুলিতে ভুল করে, ফলে নখটি গানের বাইরে উড়ে যায় এবং তিনি তা দেখেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ মনে করেন, তবে ছয় দিন পরে দাঁতের ব্যথা তাকে দন্তচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়।
এক্স-রে পরীক্ষা দেখায় যে ৪ ইঞ্চি লম্বা একটি নখ তার মুখের দিকে, বিশেষত ডান চোখের কাছাকাছি, আটকে আছে। এই লুকায়িত আঘাতের উপস্থিতি ব্যাখ্যা করে কেন তিনি পূর্বে কোনো শারীরিক আঘাতের অনুভূতি না পেয়ে ব্যথা অনুভব করছিলেন। মস্তিষ্কের সিগন্যাল এবং শারীরিক অবস্থা একসঙ্গে কাজ করে ব্যথার প্রকাশ ঘটায়।
বইটি এই ধরনের উদাহরণ ব্যবহার করে পাঠকদেরকে ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহারিক পদ্ধতি প্রদান করে। বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং রোগীর অভিজ্ঞতা একত্রে উপস্থাপন করে, জোফনেস দেখিয়েছেন কীভাবে প্রত্যাশা পরিবর্তন, মানসিক প্রশান্তি এবং সামাজিক সমর্থন ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
‘Tell Me Where It Hurts’ শুধুমাত্র তত্ত্ব নয়, বরং বাস্তবিক কৌশলও দেয়, যেমন ধ্যান, ধীরে ধীরে শারীরিক কার্যক্রমে ফিরে আসা এবং ব্যথা সম্পর্কে সঠিক তথ্য গ্রহণ। এই পদ্ধতিগুলো রোগীর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার ঝুঁকি হ্রাস করে।
সামগ্রিকভাবে, বইটি ব্যথার বহুমাত্রিক প্রকৃতি উন্মোচন করে এবং পাঠকদেরকে নিজের ব্যথা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উৎসাহিত করে। আপনি যদি ব্যথা নিয়ে বিভ্রান্ত হন বা চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি নিজে থেকে কিছু করতে চান, তবে এই বইটি একটি মূল্যবান গাইড হতে পারে। আপনার মতামত কী? আপনি কি কখনো ব্যথার মানসিক দিক নিয়ে চিন্তা করেছেন?



