ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন, নৌপরিবহন উপদেষ্টা, ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সচিবালয়ের মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি সংস্থার হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে এমন দাবি বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের অভিযোগ জনমতকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা হোসেন বলেন, বর্তমান আলোচনাগুলি এখনও চুক্তির পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং মূল বিষয়গুলো এখনও চুক্তি-অচুক্তির মধ্যে রয়েছে। সময়ের সীমাবদ্ধতা এবং শর্তাবলীর জটিলতা নিয়ে কাজ চলছে, ফলে কোনো হস্তান্তরের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনো দূরের কথা।
বন্দরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্ষেত্রগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, এ কথায় তিনি জোর দেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিককৃত নয়; পণ্য রপ্তানির জন্য জাহাজকে কলম্বো বা সিঙ্গাপুরে গিয়ে আবার ফিরে আসতে হয়, যা কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করে।
বন্দরের হস্তান্তর নিয়ে স্লোগান ছড়িয়ে দেওয়া গোষ্ঠীর প্রতি তিনি তীব্র সমালোচনা করেন, বলছেন তারা জনগণকে গুজবের জালে ফাঁদে ফেলছে। চট্টগ্রাম বন্দর একটি জাতীয় বন্দর এবং এখানে তিনটি প্রধান টার্মিনাল পরিচালিত হয়, যা দেশের বাণিজ্যিক কাঠামোর মূল স্তম্ভ।
নতুন একটি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে, যা বর্তমানে সৌদি আরবের অংশীদারিত্বে রয়েছে। হোসেন উল্লেখ করেন, তিনটি মূল টার্মিনালই বন্দরটির মূল রুট, এবং যদি কোনো টার্মিনাল থেকে আয় বৃদ্ধি পায়, তবে তারা সেবার মান উন্নত করে সব টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে চান। এজন্য দক্ষ কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
চীনের একটি আধুনিক গভীর সমুদ্রবন্দরের স্বয়ংক্রিয়তা নিয়ে তিনি উদাহরণ দেন, যেখানে কোনো মানব হস্তক্ষেপ নেই। এর বিপরীতে, বাংলাদেশের বন্দর এখনও ম্যানুয়াল কাজ—যেমন জাহাজে ল্যাশিং—প্রয়োজন, যা আন্তর্জাতিক রেটিংয়ে অগ্রগতিকে বাধা দেয়।
কিছু গোষ্ঠী যে লাভের সংখ্যা তুলে ধরছে, তা তিনি অবাস্তব বলে খণ্ডন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু লোক বন্দরকে “সোনার হাঁসের ডিম” বলে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করে, তবে বাস্তবে এমন কোনো লাভের পরিমাণ নিশ্চিত নয়। তিনি কিছু অস্বাভাবিক চাঁদাবাজি ঘটেছে বলে ইঙ্গিত দিলেও, তার কাছে সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই।
শেষে হোসেন জানান, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে যেখানে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত হয় না, সেখানে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে না। তিনি ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ও স্বার্থসঙ্গত চুক্তির মাধ্যমে বন্দরকে উন্নত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।



