বুলগেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের কঠিন পর্বতমালায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ছয়জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। মৃতদেহগুলো একাধিক স্থানে পাওয়া যাওয়ায় ঘটনাটির প্রকৃতি নিয়ে তদন্তকারীরা হত্যা‑আত্মহত্যা অথবা সম্পূর্ণ আত্মহত্যা সন্দেহ করছেন।
প্রথমে ওকোলচিতসা শীর্ষে অবস্থিত একটি মাইক্রোবাস থেকে তিনটি দেহ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তী অনুসন্ধানে একই অঞ্চলের আরেকটি মাইক্রোবাসে বাকি তিনজনের দেহ পাওয়া যায়।
জাতীয় পুলিশ অধিদপ্তরের পরিচালক জহারি ভাস্কভ উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে এ ধরনের কোনো ঘটনা আগে দেখা যায়নি। তিনি ঘটনাটির জটিলতা ও অস্বাভাবিকতা তুলে ধরেছেন।
তদন্তকারী আইনজীবীরা এক সপ্তাহ আগে বলকান পর্বতমালায় গিরিপথ পেত্রোহানের কাছে একটি পার্বত্য কুটিরে সংঘটিত তিনজনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই ঘটনার সম্ভাব্য সংযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। সেই কুটিরটি প্রকৃতি সংরক্ষণে নিবেদিত একটি এনজিওর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
কুটিরের সদস্যদেরকে কখনও কখনও সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় পাহারা দেওয়া ‘বনরক্ষী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যারা সার্বিয়ার সীমান্তে সীমান্ত পুলিশকে সহায়তা করত। পুলিশ জানায়, মৃতদের মধ্যে পাঁচজন ‘ন্যাশনাল এজেন্সি ফর কন্ট্রোল অব প্রটেক্টেড এরিয়াস’ নামের এনজিওর সদস্য এবং তারা ঐ কুটিরেই বাস করতেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারী দল কোনো এনজিও সদস্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি। তবে মৃতদেহের আশেপাশে তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মের দীক্ষা গ্রহণকারী সদস্যদের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে; কুটিরের ভেতরে বৌদ্ধ ধর্মীয় বই ও ব্যানার পাওয়া যায়।
একজন সদস্যের আত্মীয়ের মতে, গোষ্ঠীর মধ্যে মানসিক অস্থিরতার প্রবণতা ছিল। এই মন্তব্যটি তদন্তের সময় প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
মৃতদেহের নিকটে দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল এবং চারটি গুলির খোসা পাওয়া গিয়েছে। ফরেনসিক বিশ্লেষণ দেখায়, গুলি খুব কাছ থেকে ছোড়া হয়েছে, যা স্বল্প দূরত্বের গুলিবর্ষণ নির্দেশ করে।
সোফিয়ার আপিল প্রসিকিউটর দপ্তরের ডেপুটি প্রসিকিউটর নাতালিয়া নিকোলোভা জানান, প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী ঘটনাটি হত্যা‑আত্মহত্যা অথবা সম্পূর্ণ আত্মহত্যা হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অধিক তদন্তের জন্য ফরেনসিক দল ও বিশেষজ্ঞদের দলকে কুটিরের ভিতর ও আশেপাশের অঞ্চল পুনরায় পরীক্ষা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আদালতে মামলার দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।



